ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, উৎসবের আমেজ Logo মাধবপুরে টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে এখন কাজ নেই Logo আইফোনের এআই ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন: গ্রাহকদের ২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপল Logo রাঢ়িশাল করাব উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির Logo মদিনায় মসজিদে নববী থেকে বিশ্বম্ভরপুরের ওমরাহযাত্রী নারী নিখোঁজ, পরিবারের আকুতি Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারে গিয়ে পালানোর সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড Logo লাখাইয়ের কৃতি সন্তান ডা. জি এম মঈন উদ্দিন পেলেন PGPN সার্টিফিকেট Logo আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ Logo ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন: বেড়েছে ব্যয়সীমা, জামানত ও প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা Logo মাধবপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মাধবপুরে টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে এখন কাজ নেই

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার:
একসময় দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টিএন্ডটি ফোন। মাধবপুরে একটি টেলিফোন সংযোগ পাওয়াকে তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জরুরি খবর, ব্যবসায়িক যোগাযোগ কিংবা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে মানুষ নির্ভর করতেন ল্যান্ডফোনের ওপর। তবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারে বদলে গেছে সেই চিত্র। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা। ফলে একসময় ব্যস্ত থাকা মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জ এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জের আওতায় একসময় প্রায় ১০০টি ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। বর্তমানে এর কোনোটিই সচল নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে খোঁড়াখুঁড়ির সময় মাটির নিচে থাকা টেলিফোন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে প্রায় এক বছর ধরে মাধবপুরের ল্যান্ডফোন সংযোগগুলো অচল রয়েছে।

এক্সচেঞ্জে বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ফরিদ মিয়া লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর কালু মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে নাইটগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি বিনা বেতনে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, একসময় টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে ল্যান্ডফোন সংযোগ সচল রাখা, নতুন সংযোগ দেওয়া এবং লাইনের ত্রুটি মেরামতসহ নানা ধরনের কারিগরি কাজ থাকত। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ল্যান্ডফোনের ব্যবহারও ছিল ব্যাপক। কারও বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন থাকলে প্রয়োজনে আশপাশের মানুষও সেখানে ফোন করতে যেতেন।

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগে দূরের আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলা কিংবা জরুরি কোনো খবর পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিফোনই ছিল অন্যতম ভরসা। বর্তমানে মোবাইল ফোন, মোবাইল ইন্টারনেট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। ফলে ল্যান্ডফোনের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

এর মধ্যে মহাসড়কের ছয় লেনের কাজের সময় ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাধবপুরের ল্যান্ডফোন সেবা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সংযোগগুলো অচল থাকলেও এখনো তা পুরোপুরি সচল হয়নি।

এক্সচেঞ্জের নাইটগার্ড কালু মিয়া প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো বেতন পান না বলে জানা গেছে। পরিবার নিয়ে এক্সচেঞ্জ ভবনে বসবাসের পাশাপাশি অফিসের একটি ছোট জলাশয়ে মাছ চাষ করে পাওয়া আয় দিয়ে তিনি সংসার চালান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অন্যদিকে ফরিদ মিয়া লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ল্যান্ডফোন সংযোগ অচল থাকায় তার নিয়মিত কারিগরি কাজও সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিটিসিএল হবিগঞ্জ অফিসের কনিষ্ঠ ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন কুমার পাল বলেন, ‘মাধবপুরে বর্তমানে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তবে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো এখানকার ক্যাবল সার্ভিস ব্যবহার করছে।’

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ল্যান্ডফোন সংযোগ অচল হয়ে যাওয়ায় মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে বর্তমানে কার্যত তেমন কোনো কাজ নেই। একসময় যেখানে গ্রাহকদের টেলিফোন সেবা দিতে ব্যস্ততা ছিল, এখন সেখানে সেই চিত্র নেই।

এক্সচেঞ্জ ভবনটি আছে, কর্মীরাও আছেন; কিন্তু নেই একটি সচল ল্যান্ডফোন সংযোগও। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার এই সময়ে মাধবপুরের টিএন্ডটি ল্যান্ডফোন সেবা আবার চালু হবে কি না, নাকি একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্মৃতির অংশ হয়ে যাবে—এখন সেটিই প্রশ্ন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহ্যবাহী হরিপুর নৌকা বাইচ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, উৎসবের আমেজ

error:

মাধবপুরে টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে এখন কাজ নেই

আপডেট সময় ১২:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টার:
একসময় দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টিএন্ডটি ফোন। মাধবপুরে একটি টেলিফোন সংযোগ পাওয়াকে তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জরুরি খবর, ব্যবসায়িক যোগাযোগ কিংবা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে মানুষ নির্ভর করতেন ল্যান্ডফোনের ওপর। তবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তারে বদলে গেছে সেই চিত্র। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা। ফলে একসময় ব্যস্ত থাকা মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জ এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জের আওতায় একসময় প্রায় ১০০টি ল্যান্ডফোন সংযোগ ছিল। বর্তমানে এর কোনোটিই সচল নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে খোঁড়াখুঁড়ির সময় মাটির নিচে থাকা টেলিফোন ক্যাবল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে প্রায় এক বছর ধরে মাধবপুরের ল্যান্ডফোন সংযোগগুলো অচল রয়েছে।

এক্সচেঞ্জে বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে ফরিদ মিয়া লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর কালু মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে নাইটগার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি বিনা বেতনে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, একসময় টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে ল্যান্ডফোন সংযোগ সচল রাখা, নতুন সংযোগ দেওয়া এবং লাইনের ত্রুটি মেরামতসহ নানা ধরনের কারিগরি কাজ থাকত। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ল্যান্ডফোনের ব্যবহারও ছিল ব্যাপক। কারও বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন থাকলে প্রয়োজনে আশপাশের মানুষও সেখানে ফোন করতে যেতেন।

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার আগে দূরের আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলা কিংবা জরুরি কোনো খবর পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিফোনই ছিল অন্যতম ভরসা। বর্তমানে মোবাইল ফোন, মোবাইল ইন্টারনেট, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে দিয়েছে। ফলে ল্যান্ডফোনের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

এর মধ্যে মহাসড়কের ছয় লেনের কাজের সময় ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাধবপুরের ল্যান্ডফোন সেবা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রায় এক বছর ধরে সংযোগগুলো অচল থাকলেও এখনো তা পুরোপুরি সচল হয়নি।

এক্সচেঞ্জের নাইটগার্ড কালু মিয়া প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো বেতন পান না বলে জানা গেছে। পরিবার নিয়ে এক্সচেঞ্জ ভবনে বসবাসের পাশাপাশি অফিসের একটি ছোট জলাশয়ে মাছ চাষ করে পাওয়া আয় দিয়ে তিনি সংসার চালান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অন্যদিকে ফরিদ মিয়া লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ল্যান্ডফোন সংযোগ অচল থাকায় তার নিয়মিত কারিগরি কাজও সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিটিসিএল হবিগঞ্জ অফিসের কনিষ্ঠ ব্যবস্থাপক নিরঞ্জন কুমার পাল বলেন, ‘মাধবপুরে বর্তমানে তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তবে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলো এখানকার ক্যাবল সার্ভিস ব্যবহার করছে।’

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ল্যান্ডফোন সংযোগ অচল হয়ে যাওয়ায় মাধবপুর টিএন্ডটি এক্সচেঞ্জে বর্তমানে কার্যত তেমন কোনো কাজ নেই। একসময় যেখানে গ্রাহকদের টেলিফোন সেবা দিতে ব্যস্ততা ছিল, এখন সেখানে সেই চিত্র নেই।

এক্সচেঞ্জ ভবনটি আছে, কর্মীরাও আছেন; কিন্তু নেই একটি সচল ল্যান্ডফোন সংযোগও। আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার এই সময়ে মাধবপুরের টিএন্ডটি ল্যান্ডফোন সেবা আবার চালু হবে কি না, নাকি একসময়কার গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্মৃতির অংশ হয়ে যাবে—এখন সেটিই প্রশ্ন।