ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo Logo চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা গ্রেপ্তার Logo লাখাইয়ে ডিসি রোড থেকে বাজার পর্যন্ত সড়ক বেহাল, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী Logo লাখাইয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালে বেড-জনবল সংকট, ফ্লোরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা Logo লাখাইয়ে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী আহত, ট্রাক্টরসহ দুই যান জব্দ Logo নোয়াপাড়ায় মাসব্যাপী শিশুকিশোর আনন্দ মেলার উদ্বোধন Logo ইউপি উন্নয়ন প্রকল্পে ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ Logo আবাবিল সোসাইটির অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo মাধবপুরে গুমুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট Logo নাসিরনগরে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার, স্বজনদের আহাজারি

মাধবপুরে লেবুর দামে অস্বস্তি, হালি ৩০-৪০ টাকা

জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আকার ও জাতভেদে বর্তমানে প্রতি হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের লেবুর দাম কোথাও কোথাও আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সোমবার মাধবপুর উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে লেবুর বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে। বাজারে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি লেবুর সরবরাহও তুলনামূলক কম দেখা যায়। বিক্রেতারাও আগের তুলনায় কম পরিমাণে লেবু নিয়ে বাজারে আসছেন।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুম ও উৎপাদনের ওঠানামা, সাম্প্রতিক আবহাওয়ার প্রভাব এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে লেবুর দাম বেড়ে থাকতে পারে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও মাধবপুরের পাহাড়ি ও টিলা এলাকায় ব্যাপক লেবু চাষ হয়। উৎপাদন কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে পারে।

তবে উৎপাদন কমে যাওয়াই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। পাইকারি পর্যায়ে কী দামে লেবু কেনাবেচা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কতটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লেবুর দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মাধবপুরের হোটেল-রেস্টুরেন্টেও। আগে নাস্তা কিংবা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত লেবুর টুকরা দেওয়া হলেও এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই আগের তুলনায় কম লেবু পরিবেশন করা হচ্ছে। কোনো কোনো হোটেল-রেস্টুরেন্টে লেবু না দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মাধবপুর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, ‘আগে কয়েক টাকা দিয়ে কয়েকটি লেবু কিনে নেওয়া যেত। এখন হালি ৩০-৪০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে লেবুর দামও বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘হোটেলে নাস্তা করতে গেলে আগে সঙ্গে লেবু দেওয়া হতো। এখন দাম বেশি হওয়ার কথা বলে অনেক সময় লেবু দেওয়া হয় না। প্রতিদিনের বাজার খরচে এ ধরনের ছোট ছোট বাড়তি ব্যয়েরও প্রভাব পড়ে।’

হোটেল-রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ লেবু দেওয়া তাদের জন্যও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, লেবু সারা বছর উৎপাদিত হলেও মৌসুমভেদে ফলনের তারতম্য থাকে। উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারদরও তুলনামূলক সহনীয় থাকে। আবার সরবরাহ কমে গেলে চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় দাম দ্রুত বাড়তে পারে। হবিগঞ্জে লেবু চাষের বড় অঞ্চল থাকলেও উৎপাদন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় বাজারদর অনেকটাই নির্ভর করে।

ভোক্তাদের দাবি, লেবুর মতো একটি পণ্যের দাম বাড়লেও এর প্রভাব পড়ে সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরিবেশনেও। তাই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অস্বাভাবিক মুনাফা বা কারসাজি হচ্ছে কি না, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে লেবুর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। এ জন্য উৎপাদন এলাকা থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

error:

মাধবপুরে লেবুর দামে অস্বস্তি, হালি ৩০-৪০ টাকা

আপডেট সময় ১২:৩৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আকার ও জাতভেদে বর্তমানে প্রতি হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের লেবুর দাম কোথাও কোথাও আরও বেশি চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সোমবার মাধবপুর উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ঘুরে লেবুর বাড়তি দামের চিত্র দেখা গেছে। বাজারে অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি লেবুর সরবরাহও তুলনামূলক কম দেখা যায়। বিক্রেতারাও আগের তুলনায় কম পরিমাণে লেবু নিয়ে বাজারে আসছেন।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুম ও উৎপাদনের ওঠানামা, সাম্প্রতিক আবহাওয়ার প্রভাব এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে লেবুর দাম বেড়ে থাকতে পারে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, বাহুবল, নবীগঞ্জ ও মাধবপুরের পাহাড়ি ও টিলা এলাকায় ব্যাপক লেবু চাষ হয়। উৎপাদন কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়তে পারে।

তবে উৎপাদন কমে যাওয়াই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। পাইকারি পর্যায়ে কী দামে লেবু কেনাবেচা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কতটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লেবুর দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মাধবপুরের হোটেল-রেস্টুরেন্টেও। আগে নাস্তা কিংবা খাবারের সঙ্গে নিয়মিত লেবুর টুকরা দেওয়া হলেও এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই আগের তুলনায় কম লেবু পরিবেশন করা হচ্ছে। কোনো কোনো হোটেল-রেস্টুরেন্টে লেবু না দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মাধবপুর বাজারের এক ক্রেতা বলেন, ‘আগে কয়েক টাকা দিয়ে কয়েকটি লেবু কিনে নেওয়া যেত। এখন হালি ৩০-৪০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম এমনিতেই বেশি। এর মধ্যে লেবুর দামও বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘হোটেলে নাস্তা করতে গেলে আগে সঙ্গে লেবু দেওয়া হতো। এখন দাম বেশি হওয়ার কথা বলে অনেক সময় লেবু দেওয়া হয় না। প্রতিদিনের বাজার খরচে এ ধরনের ছোট ছোট বাড়তি ব্যয়েরও প্রভাব পড়ে।’

হোটেল-রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ লেবু দেওয়া তাদের জন্যও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, লেবু সারা বছর উৎপাদিত হলেও মৌসুমভেদে ফলনের তারতম্য থাকে। উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারদরও তুলনামূলক সহনীয় থাকে। আবার সরবরাহ কমে গেলে চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় দাম দ্রুত বাড়তে পারে। হবিগঞ্জে লেবু চাষের বড় অঞ্চল থাকলেও উৎপাদন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় বাজারদর অনেকটাই নির্ভর করে।

ভোক্তাদের দাবি, লেবুর মতো একটি পণ্যের দাম বাড়লেও এর প্রভাব পড়ে সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার পরিবেশনেও। তাই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অস্বাভাবিক মুনাফা বা কারসাজি হচ্ছে কি না, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে লেবুর সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। এ জন্য উৎপাদন এলাকা থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।