
আবদুর রউফ আশরাফ:
সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার যেন মুমিনের জন্য এক বিশেষ উপহার। কর্মব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা পেরিয়ে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দুনিয়ার ছুটে চলার মাঝে একটু থামতে হবে, নিজের দিকে ফিরে তাকাতে হবে এবং ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর দিকে।
একজন মুমিনের জন্য জুমার দিন তওবা, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের বিশেষ সুযোগ। দিনটি পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে শুরু করা যায়। গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সময়মতো মসজিদের দিকে যাওয়া—এসব আমলের মধ্যেও রয়েছে সুন্নাহর সৌন্দর্য। মসজিদের পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হতে পারে, আজ আমি আমার রবের দরবারে যাচ্ছি। অন্তরে এই অনুভূতি জাগ্রত হলে ইবাদতের স্বাদও বদলে যেতে পারে।
জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা এবং মনোযোগের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। পাশাপাশি সাধ্যমতো দান-সদকা এবং দোয়া-ইস্তিগফার করেও দিনটিকে অর্থবহ করে তোলা যায়।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন, পরিষ্কার পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার এবং সম্ভব হলে আগে আগে মসজিদে যাওয়া।
জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠের ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি জুমার দিনে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, তার সেই দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।’
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এমন এক নূর আলোকিত হবে, যা এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার জীবনকে আলোকিত করে রাখবে।’
এদিন সাধ্যমতো দান-সদকা করাও নেক আমল। হাদিসের বর্ণনায় জুমার দিনের দান-সদকার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কা’ব (রা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের জুমার দিন সম্পর্কে বলব না? জুমার দিন দান-সদকা করা অন্যান্য দিনে দান-সদকা করার চেয়ে অতি উত্তম।’
জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে। এ সময়টি নির্ধারণের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে একটি প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের সম্ভাবনাময় সময়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোনো মুসলমান বান্দা নামাজ অবস্থায় সে সময়টি লাভ করে এবং আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ এরপর তিনি হাত দ্বারা সে সময়ের স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করেন। (বুখারি, হাদিস: ৯৩৫; মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)
তাই জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টিকে দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনায় কাজে লাগানো যেতে পারে। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য এবং সমগ্র উম্মাহর কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা উচিত।
জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; বরং একজন মুমিনের জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ। তাই দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত নেক আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















