ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

চরম দুর্ভোগে বাহুবলের ইজ্জতপুর গ্রাম, নদী-পুকুরের ভাঙনে রাস্তা হারিয়ে বন্ধের পথে যাতায়াত

বাহুবল প্রতিনিধি, মোঃ সুমন মিয়া
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইজ্জতপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা নদী ও পুকুরের ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি এখন এতটাই সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, কয়েকশ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুলগামী শিশু, মুসল্লি এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া স্বজনরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইজ্জতপুর গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ চাঁনপুরের জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে যাতায়াত করেন। একই পথ ব্যবহার করে ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। পাশাপাশি গ্রামের ঐতিহাসিক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তাটিই এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এক পাশে নদী ও অন্য পাশে পুকুর থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার প্রশস্ততা অনেক কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটি ও পানিতে পথটি আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে। সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জানাজার জন্য মরদেহ খাটিয়ায় করে মসজিদ মাঠে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্বজন ও এলাকাবাসীকে হাঁটুসমান কাদা-পানি পেরিয়ে জমির আইল বা খেতের মধ্য দিয়ে মরদেহ বহন করে নিতে হয়। জীবনের শেষযাত্রায় এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি জনবহুল গ্রামের মসজিদ, বিদ্যালয় ও কবরস্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে।
গ্রামবাসী দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের পাশাপাশি নদী ও পুকুরের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার করলে স্কুলশিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার দুর্ভোগও দূর হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

চরম দুর্ভোগে বাহুবলের ইজ্জতপুর গ্রাম, নদী-পুকুরের ভাঙনে রাস্তা হারিয়ে বন্ধের পথে যাতায়াত

আপডেট সময় ১০:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাহুবল প্রতিনিধি, মোঃ সুমন মিয়া
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইজ্জতপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা নদী ও পুকুরের ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি এখন এতটাই সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, কয়েকশ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুলগামী শিশু, মুসল্লি এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া স্বজনরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইজ্জতপুর গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ চাঁনপুরের জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে যাতায়াত করেন। একই পথ ব্যবহার করে ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। পাশাপাশি গ্রামের ঐতিহাসিক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তাটিই এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এক পাশে নদী ও অন্য পাশে পুকুর থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার প্রশস্ততা অনেক কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটি ও পানিতে পথটি আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে। সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জানাজার জন্য মরদেহ খাটিয়ায় করে মসজিদ মাঠে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্বজন ও এলাকাবাসীকে হাঁটুসমান কাদা-পানি পেরিয়ে জমির আইল বা খেতের মধ্য দিয়ে মরদেহ বহন করে নিতে হয়। জীবনের শেষযাত্রায় এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি জনবহুল গ্রামের মসজিদ, বিদ্যালয় ও কবরস্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে।
গ্রামবাসী দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের পাশাপাশি নদী ও পুকুরের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার করলে স্কুলশিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার দুর্ভোগও দূর হবে।