ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি Logo মাধবপুরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo সুরমা চা বাগান যুব সংঘের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo বানিয়াচংয়ে ইভটিজিং ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক Logo লাখাইয়ে ৮১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মাধবপুর ইউএনওর সরকারি গাড়ি Logo আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী Logo মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল অকেজো, কাজে আসছে না বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

চরম দুর্ভোগে বাহুবলের ইজ্জতপুর গ্রাম, নদী-পুকুরের ভাঙনে রাস্তা হারিয়ে বন্ধের পথে যাতায়াত

বাহুবল প্রতিনিধি, মোঃ সুমন মিয়া
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইজ্জতপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা নদী ও পুকুরের ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি এখন এতটাই সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, কয়েকশ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুলগামী শিশু, মুসল্লি এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া স্বজনরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইজ্জতপুর গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ চাঁনপুরের জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে যাতায়াত করেন। একই পথ ব্যবহার করে ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। পাশাপাশি গ্রামের ঐতিহাসিক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তাটিই এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এক পাশে নদী ও অন্য পাশে পুকুর থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার প্রশস্ততা অনেক কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটি ও পানিতে পথটি আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে। সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জানাজার জন্য মরদেহ খাটিয়ায় করে মসজিদ মাঠে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্বজন ও এলাকাবাসীকে হাঁটুসমান কাদা-পানি পেরিয়ে জমির আইল বা খেতের মধ্য দিয়ে মরদেহ বহন করে নিতে হয়। জীবনের শেষযাত্রায় এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি জনবহুল গ্রামের মসজিদ, বিদ্যালয় ও কবরস্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে।
গ্রামবাসী দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের পাশাপাশি নদী ও পুকুরের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার করলে স্কুলশিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার দুর্ভোগও দূর হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি

error:

চরম দুর্ভোগে বাহুবলের ইজ্জতপুর গ্রাম, নদী-পুকুরের ভাঙনে রাস্তা হারিয়ে বন্ধের পথে যাতায়াত

আপডেট সময় ১০:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাহুবল প্রতিনিধি, মোঃ সুমন মিয়া
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইজ্জতপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা নদী ও পুকুরের ভাঙনে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি এখন এতটাই সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, কয়েকশ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুলগামী শিশু, মুসল্লি এবং মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়া স্বজনরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইজ্জতপুর গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ মানুষ চাঁনপুরের জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে যাতায়াত করেন। একই পথ ব্যবহার করে ইজ্জতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। পাশাপাশি গ্রামের ঐতিহাসিক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তাটিই এলাকাবাসীর প্রধান ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার এক পাশে নদী ও অন্য পাশে পুকুর থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার প্রশস্ততা অনেক কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটি ও পানিতে পথটি আরও পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ তৈরি হয় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে। সরু ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে জানাজার জন্য মরদেহ খাটিয়ায় করে মসজিদ মাঠে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় স্বজন ও এলাকাবাসীকে হাঁটুসমান কাদা-পানি পেরিয়ে জমির আইল বা খেতের মধ্য দিয়ে মরদেহ বহন করে নিতে হয়। জীবনের শেষযাত্রায় এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি জনবহুল গ্রামের মসজিদ, বিদ্যালয় ও কবরস্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকে।
গ্রামবাসী দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের পাশাপাশি নদী ও পুকুরের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার করলে স্কুলশিক্ষার্থী, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার দুর্ভোগও দূর হবে।