ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান Logo বড় স্যারের খায়েশ Logo শিক্ষার মানোন্নয়নে দুই মাস পরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে বসবেন এমপি মানিক Logo গল্লাক কলেজের গভর্নিং বডিতে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন এম এ হান্নান Logo খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে সরকার: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সম্পাদকদের বৃহৎ মতবিনিময়, সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আইন সংস্কারের দাবি Logo পদত্যাগ করলেন জহির উদ্দিন স্বপন Logo ওমরাহ করলেন আসিফ মাহমুদ Logo আজ থেকে শুরু কলেরা টিকার ক্যাম্পেইন Logo সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পাটওয়ারী মার্কেটের তেলির মোড়ে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুধী ও আলোচনা সভায় এসব দাবি উঠে আসে।

আলহাজ্ব আবদুল হামিদ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সভায় বক্তারা বলেন, মেঘনার ভাঙন হাইমচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। প্রতিবছর নদীভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থায়ী ও কার্যকর নদী রক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল হামিদ পাটওয়ারী বলেন, হাইমচরের মানুষের কাছে মেঘনা শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি তাদের অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত। দীর্ঘদিনের ভাঙনে অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়েছে। অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট নদীভাঙন থেকে হাইমচরকে রক্ষার দাবিতে আবদুল্লাহ সরকারের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ ছয়টি লঞ্চে করে ঢাকায় গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ওই ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

সভায় হাইমচরের গাজীনগর, মধ্যচর ও ঈশানবালাসহ বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙনের ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, নদীর প্রবল স্রোতের পাশাপাশি কোথাও কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী এলাকা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

আলোচনায় মেঘনা নদীর পরিবেশ ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, মেঘনা ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ নষ্ট হলে এর প্রভাব ইলিশের প্রজনন ও বিচরণেও পড়তে পারে। তাই নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু বসতভিটা হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। তাই নদীভাঙন প্রতিরোধকে জাতীয় গুরুত্বের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তব্য দেন সংগঠক মোহাম্মদ আজিজ মিয়া, হাইমচর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, সংগঠক মনজুরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজসেবক মহসিন হোসেন কিশোর, খন্দকার আবুল কালাম আজাদ ও হামিদ পাটওয়ারী।

সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নদী রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান

error:

হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান

আপডেট সময় ১০:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার পাটওয়ারী মার্কেটের তেলির মোড়ে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত সুধী ও আলোচনা সভায় এসব দাবি উঠে আসে।

আলহাজ্ব আবদুল হামিদ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সভায় বক্তারা বলেন, মেঘনার ভাঙন হাইমচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। প্রতিবছর নদীভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থায়ী ও কার্যকর নদী রক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে আবদুল হামিদ পাটওয়ারী বলেন, হাইমচরের মানুষের কাছে মেঘনা শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি তাদের অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত। দীর্ঘদিনের ভাঙনে অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়েছে। অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট নদীভাঙন থেকে হাইমচরকে রক্ষার দাবিতে আবদুল্লাহ সরকারের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ ছয়টি লঞ্চে করে ঢাকায় গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ওই ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখতে ২০ আগস্টকে জাতীয়ভাবে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

সভায় হাইমচরের গাজীনগর, মধ্যচর ও ঈশানবালাসহ বিভিন্ন এলাকার নদীভাঙনের ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, নদীর প্রবল স্রোতের পাশাপাশি কোথাও কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী এলাকা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।

আলোচনায় মেঘনা নদীর পরিবেশ ও ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, মেঘনা ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ নষ্ট হলে এর প্রভাব ইলিশের প্রজনন ও বিচরণেও পড়তে পারে। তাই নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু বসতভিটা হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত। তাই নদীভাঙন প্রতিরোধকে জাতীয় গুরুত্বের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তব্য দেন সংগঠক মোহাম্মদ আজিজ মিয়া, হাইমচর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ, সংগঠক মনজুরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজসেবক মহসিন হোসেন কিশোর, খন্দকার আবুল কালাম আজাদ ও হামিদ পাটওয়ারী।

সভায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নদী রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।