ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট Logo জুমার জামাতে ঐক্য, সমাজে বিভেদের দেয়াল Logo লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা Logo বিজয়নগরে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানী পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যান আটক Logo বাহুবলে রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে পদ্ম গোখরা উদ্ধার, সাতছড়িতে অবমুক্ত Logo রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন Logo পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মজুরি না পেয়ে সংকটে হাজারো শ্রমিক Logo ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের

মাধবপুরে বৈকণ্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, পাল্টা জিডি

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার, বাংলার খবর

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক দরিদ্র কৃষকের ওয়ারিশান সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামে বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের পাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জমি দখল করে সাইনবোর্ড টানানো, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এবং সেখানে চা গাছ রোপণ করার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়ার দাবি, ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে তিনি আদালতের রায়ে ডিক্রি পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমিটি তার নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি নিজের জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

অন্যদিকে, সেলিম মিয়া জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ উল্টো তাকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

এ বিষয়ে বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, “উক্ত জমি ১৯৫০ সাল থেকে চা বাগানের দখলে রয়েছে এবং এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিগ্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।” তবে জমির মালিকানা দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “চা বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।” উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনগতভাবে বিষয়টির স্থায়ী নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

error:

মাধবপুরে বৈকণ্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, পাল্টা জিডি

আপডেট সময় ০১:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার, বাংলার খবর

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক দরিদ্র কৃষকের ওয়ারিশান সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের পূর্ব চারাভাঙ্গা গ্রামে বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের পাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। জমি দখল করে সাইনবোর্ড টানানো, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এবং সেখানে চা গাছ রোপণ করার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক সেলিম মিয়ার দাবি, ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে তিনি আদালতের রায়ে ডিক্রি পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমিটি তার নামে নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি নিজের জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন তাকে বাধা দেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় আবেদন করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।

অন্যদিকে, সেলিম মিয়া জমিতে প্রবেশ করতে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ উল্টো তাকে বিবাদী করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

এ বিষয়ে বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, “উক্ত জমি ১৯৫০ সাল থেকে চা বাগানের দখলে রয়েছে এবং এটি আমাদের মালিকানাধীন। সেলিম মিয়া যে ডিগ্রি পেয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের হয়রানি করছেন।” তবে জমির মালিকানা দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “চা বাগান ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এর মালিক জেলা প্রশাসন। দ্রুত এ বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।” উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনগতভাবে বিষয়টির স্থায়ী নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।