
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষের আত্মহত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক এমন মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট, মানসিক অবসাদ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়কে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে।
সর্বশেষ বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বুলবুল আহমেদ স্থানীয় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপ ও মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) আত্মহত্যা করেন। একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামে সুমা সরকার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকেও আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপজেলায় চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, দাম্পত্য কলহ, আর্থিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাব, একাকীত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা বা কাউন্সেলিং না পাওয়ায় অনেকেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, আত্মহত্যা কোনো একক কারণের ফল নয়। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখা এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের কেউ দীর্ঘদিন বিষণ্নতায় ভুগলে, অতিরিক্ত হতাশা প্রকাশ করলে বা নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















