
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী বাজারের রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে একদল ব্যবসায়ী প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এলজিইডির মাধ্যমে উন্নয়ন তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে মোট ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৭ টাকা প্রদান করেন। এই বরাদ্দে চৌমুহনী বাজারের রাস্তা সংস্কার এবং তুলশীপুর ভূইয়া বাড়ির রাস্তা থেকে কুদরত আলীর বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং নির্মাণ—দুটি কাজই একই প্যাকেজের আওতায় অন্তর্ভুক্ত।
চৌমুহনী বাজার অস্থায়ী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি খুর্শেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাজারের জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাস্তার কাজ সঠিকভাবে হয়নি। বালু না দেওয়ায় রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। আমরা সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে প্রতিবাদ করেছি।”
তবে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার জনি পাঠান ও রাসেল বলেন, “চৌমুহনী বাজারের রাস্তা সংস্কার এবং তুলশীপুর ভূইয়া বাড়ির রাস্তার ইট সলিং—দুটি কাজ একই প্রকল্পের আওতায় মোট ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৭ টাকার বরাদ্দে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বাজারের রাস্তার জন্য আলাদাভাবে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য সঠিক নয়।”
তারা আরও বলেন, “এলজিইডির প্রাক্কলন (স্টিমেট) অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকৌশলীর উপস্থিতিতেই কাজ করা হয়েছে। ড্রেন না থাকায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তা কিছুটা উঁচু করতে হয়েছে। এ কারণে একটি অংশের হেজিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করে দেওয়া হবে। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, “আমার কাছে মনে হয়নি কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলীরা কাজ তদারকি করছেন। যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। চৌমুহনী বাজার ও তুলশীপুর ভূইয়া বাড়ির রাস্তার কাজ একই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাজারের ড্রেন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হেজিংও স্থায়ীভাবে ঠিক করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা রেজাউন নবী বলেন, “প্রাক্কলনের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। একজন সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে থেকে কাজ তদারকি করছেন। আমিও কাজটি পরিদর্শন করব। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























