
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) চেষ্টার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে টহল ও নজরদারি। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন ৮২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তে অবস্থান নেয়। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান গভীর রাতেই সীমান্ত এলাকায় ছুটে যান। তাঁর নেতৃত্বে সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান ও দুর্গম সীমান্তপথে রাতভর টহল পরিচালনা করে বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন, নাইট ভিশন যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের ওপারে রাবার বাগানে জড়ো করা ব্যক্তিদের রোববার ভোরের পর আর দেখা যায়নি। তবে বিজিবির ধারণা, কৌশল পরিবর্তন করে বিএসএফ অন্য কোনো সীমান্তপথ দিয়ে পুনরায় পুশইনের চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাহাড়ঘেঁষা সীমান্ত এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, “শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত তৎপরতায় সেই চেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় নিশ্ছিদ্র টহল চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। সম্ভাব্য সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।”
সীমান্তবর্তী চা বাগান ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা গতিবিধি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























