ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ায় নতুন বাস্তবতা অনুযায়ী তা সংশোধন কিংবা নতুন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফলে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার চালু হতে আরও সময় লাগবে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। তাই নতুন করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় চুক্তি করার পরিবর্তে বর্তমান এমওইউ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, প্রতারণা ও অমানবিক আচরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মানবিক ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মতে, নতুন এমওইউ স্বাক্ষরের পরিবর্তে বর্তমান চুক্তি সংশোধন করা হলে দ্রুত শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হবে। তারা মনে করেন, অতীতে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বারবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। তাই টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জনশক্তি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বারবার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানের ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, বৈষম্যমুক্ত ও নৈতিক করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

আপডেট সময় ০২:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ায় নতুন বাস্তবতা অনুযায়ী তা সংশোধন কিংবা নতুন চুক্তি সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। ফলে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার চালু হতে আরও সময় লাগবে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। তাই নতুন করে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় চুক্তি করার পরিবর্তে বর্তমান এমওইউ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, প্রতারণা ও অমানবিক আচরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে মানবিক ও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মতে, নতুন এমওইউ স্বাক্ষরের পরিবর্তে বর্তমান চুক্তি সংশোধন করা হলে দ্রুত শ্রমবাজার চালু করা সম্ভব হবে। তারা মনে করেন, অতীতে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বারবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। তাই টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জনশক্তি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বারবার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে।

আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানানের ঢাকা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, বৈষম্যমুক্ত ও নৈতিক করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।