ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম Logo মজুরি দাবিতে পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান ও স্ত্রী

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাকির হোসেন পলাশ। গত শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশের বাড়ি ফেরার খবরে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে দেখতে ভিড় জমান। স্বজনদের কাছে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কারাজীবনের নানা দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পলাশ জানান, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি একে একে হারিয়েছেন তার বাবা ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে। মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তার সন্তান মারা গেলেও শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেননি। পরে মারা যান তার বাবা ডা. আব্দুর রাশিদ। কারাগারে থাকায় বাবা ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তার মুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে তার স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে তার আপন বলতে শুধু বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন।

পলাশের বড় ভাই বিডিআর আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ছোট ভাইয়ের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আমার ছোট ভাই বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে আবারও আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ বন্দিজীবন ও একের পর এক প্রিয়জন হারানোর কারণে পলাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তার বাকি জীবন যেন শান্তিময় ও সুন্দর হয়, সে জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার

error:

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান ও স্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাকির হোসেন পলাশ। গত শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশের বাড়ি ফেরার খবরে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে দেখতে ভিড় জমান। স্বজনদের কাছে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কারাজীবনের নানা দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পলাশ জানান, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি একে একে হারিয়েছেন তার বাবা ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে। মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তার সন্তান মারা গেলেও শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেননি। পরে মারা যান তার বাবা ডা. আব্দুর রাশিদ। কারাগারে থাকায় বাবা ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তার মুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে তার স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে তার আপন বলতে শুধু বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন।

পলাশের বড় ভাই বিডিআর আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ছোট ভাইয়ের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আমার ছোট ভাই বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে আবারও আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ বন্দিজীবন ও একের পর এক প্রিয়জন হারানোর কারণে পলাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তার বাকি জীবন যেন শান্তিময় ও সুন্দর হয়, সে জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।