ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ৫৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, কালনী ট্রেন অবরোধ Logo নিজ অর্থায়নে উন্নয়ন কাজে প্রশংসিত মীর ইব্রাহিম মিয়া Logo শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo চুনারুঘাটের শালটিলা বন বিটে ২৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ Logo চুনারুঘাটে অভিযানে গ্রেপ্তার মাদক মামলার আসামি ফিরোজ মিয়া Logo সংসদে মাধবপুর-চুনারুঘাটের উন্নয়ন দাবিতে সোচ্চার এমপি ফয়সল, চৌমুহনী রাবার ড্যাম পুনরায় চালুর আহ্বান Logo মাধবপুরে জুলাই শহীদ শামীম মিয়ার নামে সড়ক নামকরণের দাবিতে স্মারকলিপি Logo হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ Logo চৌমুহনী বাজারে এনআরবি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান ও স্ত্রী

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাকির হোসেন পলাশ। গত শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশের বাড়ি ফেরার খবরে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে দেখতে ভিড় জমান। স্বজনদের কাছে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কারাজীবনের নানা দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পলাশ জানান, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি একে একে হারিয়েছেন তার বাবা ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে। মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তার সন্তান মারা গেলেও শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেননি। পরে মারা যান তার বাবা ডা. আব্দুর রাশিদ। কারাগারে থাকায় বাবা ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তার মুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে তার স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে তার আপন বলতে শুধু বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন।

পলাশের বড় ভাই বিডিআর আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ছোট ভাইয়ের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আমার ছোট ভাই বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে আবারও আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ বন্দিজীবন ও একের পর এক প্রিয়জন হারানোর কারণে পলাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তার বাকি জীবন যেন শান্তিময় ও সুন্দর হয়, সে জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ৫৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বিডিআর বিদ্রোহের ১৭ বছর পর জামিনে মুক্ত পলাশ, হারিয়েছেন সন্তান ও স্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাকির হোসেন পলাশ। গত শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের সিংদই টংগীরচর গ্রামে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশের বাড়ি ফেরার খবরে সকাল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে দেখতে ভিড় জমান। স্বজনদের কাছে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কারাজীবনের নানা দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পলাশ জানান, কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি একে একে হারিয়েছেন তার বাবা ও একমাত্র পুত্রসন্তানকে। মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত তার সন্তান মারা গেলেও শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেননি। পরে মারা যান তার বাবা ডা. আব্দুর রাশিদ। কারাগারে থাকায় বাবা ও সন্তানের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তার মুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে তার স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে তার আপন বলতে শুধু বৃদ্ধা মা বেঁচে আছেন।

পলাশের বড় ভাই বিডিআর আজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ছোট ভাইয়ের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। আমার ছোট ভাই বিডিআর জাকির হোসেন পলাশ জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে আবারও আপনজনদের মাঝে ফিরতে পেরেছে।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ বন্দিজীবন ও একের পর এক প্রিয়জন হারানোর কারণে পলাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তার বাকি জীবন যেন শান্তিময় ও সুন্দর হয়, সে জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।