ঢাকা ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট Logo জুমার জামাতে ঐক্য, সমাজে বিভেদের দেয়াল Logo লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা Logo বিজয়নগরে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানী পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যান আটক Logo বাহুবলে রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে পদ্ম গোখরা উদ্ধার, সাতছড়িতে অবমুক্ত

শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত; আটক ৪

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিনে কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের কারী কালা মিয়ার ছেলে আহম্মদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে একই গ্রামের মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খড়কি গ্রামে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দ্র ও তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ আরও প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় খড়কি গ্রামের ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল

error:

শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত; আটক ৪

আপডেট সময় ১০:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিনে কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের কারী কালা মিয়ার ছেলে আহম্মদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে একই গ্রামের মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খড়কি গ্রামে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দ্র ও তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ আরও প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় খড়কি গ্রামের ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”