ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ Logo মাধবপুরে ক্ষুদে ডাক্তারদের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার Logo মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেটে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম সিনেটর Logo চা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারে চাঁন্দপুরে নিপেন পাল প্যানেলের মতবিনিময় Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদানে মেতে উঠলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo জামালপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন Logo মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

মাধবপুরে খাইরুল হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন, ফাঁসির দাবি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জালোয়াবাদ গ্রামে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রং মিস্ত্রি মোঃ খাইরুল ইসলামকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার গেটঘর সাহাপুর বাজার এলাকায় জালোয়াবাদ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ ও সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালোয়াবাদ (ফরিদাবাদ) গ্রামের মোঃ শামছু উদ্দিনের ছেলে খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। কাজের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আল-আমিন মিয়া ও তার চাচা সুজন মিয়ার সঙ্গে খাইরুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে গত এপ্রিল মাসে আল-আমিনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ধারালো ডেগার (ছুরি) দিয়ে খাইরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

গুরুতর আহত খাইরুলকে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১১টা ৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খাইরুল।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— নিহত খাইরুলের বাবা শামসুল উদ্দিন, আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, লিটন মিয়া, মাওলানা মোঃ রেজওয়ান এবং খাইরুল ইসলাম রোকনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আল-আমিন ও সুজন মিয়া পরিকল্পিতভাবে খাইরুলকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় “খুনি আল-আমিন ও সুজন মিয়ার ফাঁসি চাই” বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯

error:

মাধবপুরে খাইরুল হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন, ফাঁসির দাবি

আপডেট সময় ১২:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জালোয়াবাদ গ্রামে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রং মিস্ত্রি মোঃ খাইরুল ইসলামকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার গেটঘর সাহাপুর বাজার এলাকায় জালোয়াবাদ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ ও সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালোয়াবাদ (ফরিদাবাদ) গ্রামের মোঃ শামছু উদ্দিনের ছেলে খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। কাজের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আল-আমিন মিয়া ও তার চাচা সুজন মিয়ার সঙ্গে খাইরুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে গত এপ্রিল মাসে আল-আমিনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ধারালো ডেগার (ছুরি) দিয়ে খাইরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

গুরুতর আহত খাইরুলকে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১১টা ৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খাইরুল।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— নিহত খাইরুলের বাবা শামসুল উদ্দিন, আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, লিটন মিয়া, মাওলানা মোঃ রেজওয়ান এবং খাইরুল ইসলাম রোকনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আল-আমিন ও সুজন মিয়া পরিকল্পিতভাবে খাইরুলকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় “খুনি আল-আমিন ও সুজন মিয়ার ফাঁসি চাই” বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।