ঢাকা ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

মাধবপুরে খাইরুল হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন, ফাঁসির দাবি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জালোয়াবাদ গ্রামে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রং মিস্ত্রি মোঃ খাইরুল ইসলামকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার গেটঘর সাহাপুর বাজার এলাকায় জালোয়াবাদ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ ও সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালোয়াবাদ (ফরিদাবাদ) গ্রামের মোঃ শামছু উদ্দিনের ছেলে খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। কাজের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আল-আমিন মিয়া ও তার চাচা সুজন মিয়ার সঙ্গে খাইরুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে গত এপ্রিল মাসে আল-আমিনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ধারালো ডেগার (ছুরি) দিয়ে খাইরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

গুরুতর আহত খাইরুলকে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১১টা ৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খাইরুল।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— নিহত খাইরুলের বাবা শামসুল উদ্দিন, আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, লিটন মিয়া, মাওলানা মোঃ রেজওয়ান এবং খাইরুল ইসলাম রোকনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আল-আমিন ও সুজন মিয়া পরিকল্পিতভাবে খাইরুলকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় “খুনি আল-আমিন ও সুজন মিয়ার ফাঁসি চাই” বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

মাধবপুরে খাইরুল হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন, ফাঁসির দাবি

আপডেট সময় ১২:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জালোয়াবাদ গ্রামে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রং মিস্ত্রি মোঃ খাইরুল ইসলামকে (২২) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উপজেলার গেটঘর সাহাপুর বাজার এলাকায় জালোয়াবাদ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ ও সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের জালোয়াবাদ (ফরিদাবাদ) গ্রামের মোঃ শামছু উদ্দিনের ছেলে খাইরুল ইসলাম পেশায় একজন রং মিস্ত্রি ছিলেন। কাজের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আল-আমিন মিয়া ও তার চাচা সুজন মিয়ার সঙ্গে খাইরুলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই জেরে গত এপ্রিল মাসে আল-আমিনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা ধারালো ডেগার (ছুরি) দিয়ে খাইরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।

গুরুতর আহত খাইরুলকে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২২ এপ্রিল রাত ১১টা ৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খাইরুল।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন— নিহত খাইরুলের বাবা শামসুল উদ্দিন, আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, লিটন মিয়া, মাওলানা মোঃ রেজওয়ান এবং খাইরুল ইসলাম রোকনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আল-আমিন ও সুজন মিয়া পরিকল্পিতভাবে খাইরুলকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় “খুনি আল-আমিন ও সুজন মিয়ার ফাঁসি চাই” বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।