ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী Logo হবিগঞ্জে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট

তিন গ্রামের মানুষের গলার কাঁটা এক্তিয়ারপুর-শাহপুর সড়ক

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর, মনিপুর ও শ্রীমতপুর—এই তিন গ্রামের হাজারো মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা এক্তিয়ারপুর-শাহপুর সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে ডুবে যায়। শুকনো মৌসুমে ধুলার ঝড় ওঠে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও স্থায়ী জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীদের।

এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “বছরের পর বছর আমরা এই রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটা যায় না। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হতে গেলে বড় বিপদে পড়তে হয়।”

মনিপুর গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি।”

শ্রীমতপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারি না ঠিকমতো। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়কের দুরাবস্থা তুলে ধরা হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে মিলছে কেবল আশ্বাস, বাস্তবায়ন নেই।

এ বিষয়ে ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউন নবী জানান, “সড়কটি তালিকাভুক্ত রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে কিশোরকণ্ঠ মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশ নিল ২২০ শিক্ষার্থী

error:

তিন গ্রামের মানুষের গলার কাঁটা এক্তিয়ারপুর-শাহপুর সড়ক

আপডেট সময় ০৯:২৭:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর, মনিপুর ও শ্রীমতপুর—এই তিন গ্রামের হাজারো মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা এক্তিয়ারপুর-শাহপুর সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদা ও পানিতে ডুবে যায়। শুকনো মৌসুমে ধুলার ঝড় ওঠে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও স্থায়ী জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সড়কটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীদের।

এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “বছরের পর বছর আমরা এই রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটা যায় না। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হতে গেলে বড় বিপদে পড়তে হয়।”

মনিপুর গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি।”

শ্রীমতপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারি না ঠিকমতো। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়কের দুরাবস্থা তুলে ধরা হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে মিলছে কেবল আশ্বাস, বাস্তবায়ন নেই।

এ বিষয়ে ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউন নবী জানান, “সড়কটি তালিকাভুক্ত রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”