
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়লেও সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে গ্রামীণ জীবনযাত্রা দিন দিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রামে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ নানা অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের আয় এবং জমি কেনাবেচা সংশ্লিষ্ট ব্যবসার প্রসারের ফলে অনেক গ্রামে দালানকোঠার সংখ্যা বেড়েছে। তবে এই উন্নয়নের পাশাপাশি বেড়েছে পারিবারিক কলহ, বিবাদ, মামলা-মোকদ্দমা এবং সামাজিক অস্থিরতা।
তার মতে, গ্রামীণ সমাজে নেশা, জুয়া ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফলে গ্রাম আর আগের মতো শান্তির নীড় নেই। অনেক শিক্ষিত পরিবার তাদের সন্তানদের এই পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে শহরমুখী হচ্ছে, যা গ্রামীণ শিক্ষার মান ও সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করছে।
আশরাফ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, গ্রামে সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও সুনৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। উন্মুক্ত নালা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং অসচেতনতা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি মনে করেন, গ্রামীণ সমাজে সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা আগের মতো নেই। অনানুষ্ঠানিক সামাজিক সালিশ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গ্রাম উন্নয়নে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা গেলে যুবকরাই পারে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তুলতে। অন্যথায় বিপথগামী তরুণরা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামকে সত্যিকার অর্থে উন্নত ও বসবাসযোগ্য করতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার উন্নয়নও জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামকে আবার শান্তি ও সম্প্রীতির আবাসস্থলে পরিণত করা সম্ভব।
বাংলার খবর ডেস্ক : 














