ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারী আটক, ছয় মাসের কারাদণ্ড Logo দেশের ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি, যোগদানের সময়সীমা ২৯ অক্টোবর Logo লাখাইয়ে সিংহ ও করাব গ্রামের বিরোধে উত্তেজনা, বন্ধ বুল্লা বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য Logo মরমি সাধক শেখ ভানু শাহ: কালজয়ী গানে আজও বেঁচে আছেন লাখাইয়ের ভাদিকারা গ্রামে Logo খলিলুর রহমানের গণসংযোগের পোস্টে মান্নান আখনের প্রশ্ন, ‘এটা কি ঠিক হচ্ছে ভাই’ Logo দলীয় মনোনয়নের আগেই হাইমচরে খলিলুর রহমান পাটওয়ারীর গণসংযোগ Logo নোয়াপাড়া চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি পাননি শ্রমিকরা, শূন্য হাতে ফিরলেন বাড়ি Logo কচুরিপানার আগ্রাসনে চাষের অনুপযোগী লাখাইয়ের হাওর, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক Logo জামালপুরে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, সব পদ থেকে অব্যাহতি Logo হাইমচরে দুই প্রতিষ্ঠানে অভিযান, জরিমানা ৫৫ হাজার টাকা

টানা বর্ষণে মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

আব্দুল বাছিত খান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বুধবার সকালে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানায়, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

এছাড়া মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উজানে আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্লাবন দেখা দিয়েছে।

রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকাতেও বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে চলে গেছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে গোগালী ছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, মৎস্য খামার ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে উপজেলার সদর ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন, দানাপুর, কামারকান্দি ও লামাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা।

এতে প্রায় ১০০ বিঘা আউশ ও বোরো ধানের ক্ষেত, আউশের বীজতলা এবং শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজানে অতিবৃষ্টি হলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে চুরির চেষ্টার অভিযোগে ৪ নারী আটক, ছয় মাসের কারাদণ্ড

error:

টানা বর্ষণে মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার

আপডেট সময় ০৬:৫১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আব্দুল বাছিত খান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বুধবার সকালে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানায়, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

এছাড়া মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উজানে আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্লাবন দেখা দিয়েছে।

রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকাতেও বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে চলে গেছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে গোগালী ছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, মৎস্য খামার ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে উপজেলার সদর ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন, দানাপুর, কামারকান্দি ও লামাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা।

এতে প্রায় ১০০ বিঘা আউশ ও বোরো ধানের ক্ষেত, আউশের বীজতলা এবং শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজানে অতিবৃষ্টি হলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।