ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে Logo মাধবপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ধীরেন্দ্র পাল, সেক্রেটারি তপন দেবনাথ Logo মাধবপুরে ট্রাকভর্তি বালুর নিচে মিলল ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা: বিজিবির অভিযান Logo কুবির অর্থনীতি ক্লাবের নেতৃত্বে আসাদ-মাহফুজুল, নতুন কমিটি ঘোষণা Logo বাহুবলে ক্লিন ইমেজের প্রশাসক চান এলাকাবাসী: আলোচনায় আলমগীর খাঁন রানা Logo হত্যাসহ ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী Logo অন্যায়কারী আমাদের সহানুভূতি পাবে না: মাধবপুরে এমপি সৈয়দ ফয়সল Logo মাধবপুরে টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ডাক দিলেন সংসদ সদস্য জি কে গউছ Logo বাহুবলে আধুনিক উপজেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি: ডক্টর রেজা কিবরিয়া

গতির মরণনেশা বনাম একটি পরিবারের কান্না: মোটরসাইকেল যখন এক অভিশাপ

পারভেজ হাসান লাখাই, প্রতিনিধি:

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে মোটরসাইকেল কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্মাদনা ও আভিজাত্যের প্রতীক। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা দুই চাকার যান। কিন্তু এই গতির উন্মাদনার বিপরীত চিত্রটি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। যে মোটরসাইকেল এক মধ্যবিত্ত বাবার সন্তানের কাছে রঙিন স্বপ্ন, সেই একই মোটরসাইকেল আজ অসংখ্য পরিবারের জীবনে কান্না আর শূন্যতা নিয়ে আসছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এর শিকার হচ্ছে মূলত কিশোর ও তরুণরা। ‘স্পিড’ বা গতির নেশায় তারা ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি দুর্ঘটনাই কেড়ে নিচ্ছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। একটি শখ যখন একটি পরিবারের আজীবনের কান্নায় রূপ নেয়, তখন সেই শখ আর বিলাসিতা থাকে না।

মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং লেন পরিবর্তনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—১৮ বছরের নিচে কিংবা লাইসেন্সবিহীন কিশোরদের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দেওয়া। এটি কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে সন্তানকে ঠেলে দেওয়ার নাম।

আমাদের মনে রাখতে হবে, রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতাই পারে এই অকাল মৃত্যু রোধ করতে।

একটি মোটরসাইকেল কারো স্বপ্ন হতে পারে, কারো প্রয়োজন—কিন্তু তা যেন কখনোই শেষ বিদায়ের কারণ না হয়। সড়ক হোক নিরাপদ, শখ হোক জীবনমুখী। কারণ এক মুহূর্তের অসতর্কতা শুধু একটি প্রাণই নয়, একটি পরিবারের স্বপ্নও চিরতরে থামিয়ে দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে

error:

গতির মরণনেশা বনাম একটি পরিবারের কান্না: মোটরসাইকেল যখন এক অভিশাপ

আপডেট সময় ০৩:২৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান লাখাই, প্রতিনিধি:

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে মোটরসাইকেল কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্মাদনা ও আভিজাত্যের প্রতীক। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা দুই চাকার যান। কিন্তু এই গতির উন্মাদনার বিপরীত চিত্রটি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। যে মোটরসাইকেল এক মধ্যবিত্ত বাবার সন্তানের কাছে রঙিন স্বপ্ন, সেই একই মোটরসাইকেল আজ অসংখ্য পরিবারের জীবনে কান্না আর শূন্যতা নিয়ে আসছে।

সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এর শিকার হচ্ছে মূলত কিশোর ও তরুণরা। ‘স্পিড’ বা গতির নেশায় তারা ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি দুর্ঘটনাই কেড়ে নিচ্ছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। একটি শখ যখন একটি পরিবারের আজীবনের কান্নায় রূপ নেয়, তখন সেই শখ আর বিলাসিতা থাকে না।

মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং লেন পরিবর্তনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—১৮ বছরের নিচে কিংবা লাইসেন্সবিহীন কিশোরদের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দেওয়া। এটি কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে সন্তানকে ঠেলে দেওয়ার নাম।

আমাদের মনে রাখতে হবে, রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতাই পারে এই অকাল মৃত্যু রোধ করতে।

একটি মোটরসাইকেল কারো স্বপ্ন হতে পারে, কারো প্রয়োজন—কিন্তু তা যেন কখনোই শেষ বিদায়ের কারণ না হয়। সড়ক হোক নিরাপদ, শখ হোক জীবনমুখী। কারণ এক মুহূর্তের অসতর্কতা শুধু একটি প্রাণই নয়, একটি পরিবারের স্বপ্নও চিরতরে থামিয়ে দেয়।