
পারভেজ হাসান লাখাই, প্রতিনিধি:
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে মোটরসাইকেল কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্মাদনা ও আভিজাত্যের প্রতীক। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা দুই চাকার যান। কিন্তু এই গতির উন্মাদনার বিপরীত চিত্রটি ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। যে মোটরসাইকেল এক মধ্যবিত্ত বাবার সন্তানের কাছে রঙিন স্বপ্ন, সেই একই মোটরসাইকেল আজ অসংখ্য পরিবারের জীবনে কান্না আর শূন্যতা নিয়ে আসছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বলছে, মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। এর শিকার হচ্ছে মূলত কিশোর ও তরুণরা। ‘স্পিড’ বা গতির নেশায় তারা ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি দুর্ঘটনাই কেড়ে নিচ্ছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। একটি শখ যখন একটি পরিবারের আজীবনের কান্নায় রূপ নেয়, তখন সেই শখ আর বিলাসিতা থাকে না।
মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং লেন পরিবর্তনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—১৮ বছরের নিচে কিংবা লাইসেন্সবিহীন কিশোরদের হাতে মোটরসাইকেলের চাবি তুলে দেওয়া। এটি কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, বরং একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে সন্তানকে ঠেলে দেওয়ার নাম।
আমাদের মনে রাখতে হবে, রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতাই পারে এই অকাল মৃত্যু রোধ করতে।
একটি মোটরসাইকেল কারো স্বপ্ন হতে পারে, কারো প্রয়োজন—কিন্তু তা যেন কখনোই শেষ বিদায়ের কারণ না হয়। সড়ক হোক নিরাপদ, শখ হোক জীবনমুখী। কারণ এক মুহূর্তের অসতর্কতা শুধু একটি প্রাণই নয়, একটি পরিবারের স্বপ্নও চিরতরে থামিয়ে দেয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























