ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির Logo লাখাইয়ে বিধবার জমি দখলে বাধা, আদালতের রায় কার্যকর চেয়ে থানায় অভিযোগ Logo শাহজীবাজারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: হবিগঞ্জে শুক্রবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ Logo সাইফ, তামিম, সৌম্যর দ্রুত বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ Logo লাখাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে অচলাবস্থা, সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে এলাকাবাসী Logo মাধবপুরে চিকিৎসক সংকটে দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে সেবা Logo হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo হারিয়ে যাচ্ছে দলবেঁধে ধান কাটার উৎসব Logo হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় ঔষধ ও ফুচকা জব্দ Logo লাখাইয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে খামারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কেমন আছে গ্রাম বাংলাদেশ?

**আশরাফ উদ্দিন আহমেদ**

প্রায় ছয় বছর পর রতনপুর–মাদাডগডা গ্রামের বাড়িতে এসে আজ সাতটি মূল্যবান দিন পার হলো। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে ঘরের বাইরে খুব একটা যাওয়া হয়নি। শীত উপেক্ষা করে একদিন জগদীশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েছিলাম। কাজ শেষ করা যায়নি। একই জমি ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে দুজন ক্রেতার নামে হওয়ায় দুটি দলিল করতে হয়। পড়ন্ত বেলায় মাত্র একটি দলিল উপস্থাপন হওয়ায় একটি দলিলই রেজিস্ট্রেশন হয়। কেন সঙ্গে থাকা অন্য দলিলটি উপস্থাপন করা হলো না—তা রহস্যাবৃত থাকলেও অনুমানের অতীত নয়।
গ্রামগঞ্জের অতি নিকটে অবস্থিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবার যদি এটাই নমুনা হয়, তবে দুর্নীতি কীভাবে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় অসহায় অবস্থায় নিপতিত করছে—তা ভাবলে একসঙ্গে কষ্ট ও আফসোস হয়। দেশ কোন পথে চলছে—এই প্রশ্ন এসে যায়। দুর্নীতিজনিত জনভোগান্তি যখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন জবাবদিহিতার বাস্তব চিত্র সহজেই অনুমেয়। ক্ষুদ্র আমলা ও তাদের সহযোগীদের মানবিক চরিত্রে যে ধস নেমেছে, তা নিত্যদিনের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যপ্রবাহে ঘুষের আদান–প্রদানের প্রবণতা এখন নষ্ট সংস্কৃতিতে পরিণত হয়ে প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো শক্ত ভিত্তি খুঁজে পাই না।
নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা কঠিন কাজ। বিকল্প হিসেবে যদি গণজবাবদিহিতার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে শুরু করা যায়, তবে অন্তত নিম্ন প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে যে ঘুষ-বাণিজ্য চলছে, তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
তবে এর বিপরীত চিত্র দেখেছি নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে। তরুণ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেলের দপ্তরে কিছু সময় কাটিয়েছি। সঙ্গে ছিলেন আমার ভাগিনা তপু মেম্বার—বাংলাদেশে বহুল আলোচিত একটি মামলার কারণে পরিচিত নাম। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচনে এক ভোটে পরাজয়ের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে পুনর্গণনায় ৫৩৩ ভোটে জয়ী হওয়ার রায় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সসম্মানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যদিও দায়ীদের বিচারিক শাস্তি দীর্ঘসূত্রতায় ঝুলে আছে, তবুও এমন রায় দ্রুত নিষ্পত্তি হলে তা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করি।
চেয়ারম্যান সোহেল আমাকে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে অফিসে নিয়ে গেলে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখি—অধিকাংশই নারী। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদসহ নানা কাজে তারা এসেছেন। আলাপচারিতার ফাঁকেও চেয়ারম্যান দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীর মধ্যে কোনো সংকোচ বা ভয় লক্ষ করিনি। সহজেই বোঝা যায়—তিনি একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি। মানবিক সম্পর্কের যে অনানুষ্ঠানিক সৌন্দর্য এই দপ্তরে দেখেছি, তা স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কার্যকারিতা নিয়ে আশার আলো দেখিয়েছে। সোহেলের মতো মানবিক চেয়ারম্যানরা গ্রাম বাংলাদেশের সমাজচিত্র বদলে দিতে পারবেন—এ বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে। সুস্থ মানসিকতার জনপ্রতিনিধি তারাই, যারা জনসাধারণের জন্য সবসময় দরজা খোলা রাখেন।
গ্রামের এক শ্রেণির মানুষ চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। পাঁচ বছর আগে যা দেখিনি, এবার তা চোখে পড়ছে। গ্রামে নির্মাণকাজে নারী ও শিশু শ্রমিক দেখে হতচকিত হয়েছি। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি তারা অমানুষিক কায়িক পরিশ্রম করছে। এ থেকে স্পষ্ট হয়—গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিতও এতে পাওয়া যায়। যে দশ বছরের ছেলেটির স্কুলে থাকার কথা, সে আজ নির্মাণ শ্রমিক। যে নারী কয়েক বছর আগেও ঘরসংসারে সীমাবদ্ধ ছিলেন, তিনিও আজ পুরুষের সঙ্গে সমানতালে শ্রম দিচ্ছেন। এতে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও মূলত এটি গ্রামীণ অর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থারই ইঙ্গিত দেয়।
কিছু ফটকাবাজ ও দালাল শ্রেণির মানুষ ভালো আছে। কিন্তু বিত্তহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে অবিরাম। নতুন–পুরনো মিলিয়ে এই শ্রেণির বিস্তার ভয়াবহ ও করুণ। প্রাচুর্যের যত প্রচারই হোক, তা যে সর্বাংশে সত্য নয়—এই সফরে তা বেদনাহত মনে প্রত্যক্ষ করলাম।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিয়মিতকরণ এতে সুফল এনেছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রাথমিক শিক্ষায় নারীদের ব্যাপক নিয়োগ ছিল যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। সেই ধারা অব্যাহত থাকায় বিশেষত মেয়েরা উপকৃত হয়েছে—উপকৃত হয়েছে জাতিও।
পরিবেশ পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। রঘুনন্দন পাহাড় প্রায় ন্যাড়া হয়ে গেছে। বনজ সম্পদ—ছন, বাঁশ, শাল, সেগুনসহ নানা প্রজাতির গাছপালা চোখে পড়ে না। বনমোরগ, মায়াহরিণ বা বার্কিং ডিয়ারের মতো বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। মানুষের অবাধ আনাগোনা, আবাসন বিস্তার, পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং নির্বিচারে বন উজাড়—সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এর খেসারত আমরা এখন দিচ্ছি।
প্রকৃতি একসময় আমাদের জন্য যে উদারতার দরজা খুলে রেখেছিল, আজ তা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, তবে গ্রাম বাংলাদেশ শুধু স্মৃতির পাতায়ই টিকে থাকবে—বাস্তবে নয়।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির

error:

কেমন আছে গ্রাম বাংলাদেশ?

আপডেট সময় ১২:০১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

**আশরাফ উদ্দিন আহমেদ**

প্রায় ছয় বছর পর রতনপুর–মাদাডগডা গ্রামের বাড়িতে এসে আজ সাতটি মূল্যবান দিন পার হলো। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে ঘরের বাইরে খুব একটা যাওয়া হয়নি। শীত উপেক্ষা করে একদিন জগদীশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েছিলাম। কাজ শেষ করা যায়নি। একই জমি ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে দুজন ক্রেতার নামে হওয়ায় দুটি দলিল করতে হয়। পড়ন্ত বেলায় মাত্র একটি দলিল উপস্থাপন হওয়ায় একটি দলিলই রেজিস্ট্রেশন হয়। কেন সঙ্গে থাকা অন্য দলিলটি উপস্থাপন করা হলো না—তা রহস্যাবৃত থাকলেও অনুমানের অতীত নয়।
গ্রামগঞ্জের অতি নিকটে অবস্থিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সেবার যদি এটাই নমুনা হয়, তবে দুর্নীতি কীভাবে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় অসহায় অবস্থায় নিপতিত করছে—তা ভাবলে একসঙ্গে কষ্ট ও আফসোস হয়। দেশ কোন পথে চলছে—এই প্রশ্ন এসে যায়। দুর্নীতিজনিত জনভোগান্তি যখন স্থানীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন জবাবদিহিতার বাস্তব চিত্র সহজেই অনুমেয়। ক্ষুদ্র আমলা ও তাদের সহযোগীদের মানবিক চরিত্রে যে ধস নেমেছে, তা নিত্যদিনের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট। দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যপ্রবাহে ঘুষের আদান–প্রদানের প্রবণতা এখন নষ্ট সংস্কৃতিতে পরিণত হয়ে প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো শক্ত ভিত্তি খুঁজে পাই না।
নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা কঠিন কাজ। বিকল্প হিসেবে যদি গণজবাবদিহিতার প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে শুরু করা যায়, তবে অন্তত নিম্ন প্রশাসনিক স্তরে সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে যে ঘুষ-বাণিজ্য চলছে, তা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।
তবে এর বিপরীত চিত্র দেখেছি নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে। তরুণ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেলের দপ্তরে কিছু সময় কাটিয়েছি। সঙ্গে ছিলেন আমার ভাগিনা তপু মেম্বার—বাংলাদেশে বহুল আলোচিত একটি মামলার কারণে পরিচিত নাম। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড মেম্বার নির্বাচনে এক ভোটে পরাজয়ের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে পুনর্গণনায় ৫৩৩ ভোটে জয়ী হওয়ার রায় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সসম্মানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যদিও দায়ীদের বিচারিক শাস্তি দীর্ঘসূত্রতায় ঝুলে আছে, তবুও এমন রায় দ্রুত নিষ্পত্তি হলে তা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করি।
চেয়ারম্যান সোহেল আমাকে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে অফিসে নিয়ে গেলে সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি দেখি—অধিকাংশই নারী। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদসহ নানা কাজে তারা এসেছেন। আলাপচারিতার ফাঁকেও চেয়ারম্যান দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীর মধ্যে কোনো সংকোচ বা ভয় লক্ষ করিনি। সহজেই বোঝা যায়—তিনি একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি। মানবিক সম্পর্কের যে অনানুষ্ঠানিক সৌন্দর্য এই দপ্তরে দেখেছি, তা স্থানীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্তরের কার্যকারিতা নিয়ে আশার আলো দেখিয়েছে। সোহেলের মতো মানবিক চেয়ারম্যানরা গ্রাম বাংলাদেশের সমাজচিত্র বদলে দিতে পারবেন—এ বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে। সুস্থ মানসিকতার জনপ্রতিনিধি তারাই, যারা জনসাধারণের জন্য সবসময় দরজা খোলা রাখেন।
গ্রামের এক শ্রেণির মানুষ চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। পাঁচ বছর আগে যা দেখিনি, এবার তা চোখে পড়ছে। গ্রামে নির্মাণকাজে নারী ও শিশু শ্রমিক দেখে হতচকিত হয়েছি। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি তারা অমানুষিক কায়িক পরিশ্রম করছে। এ থেকে স্পষ্ট হয়—গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিতও এতে পাওয়া যায়। যে দশ বছরের ছেলেটির স্কুলে থাকার কথা, সে আজ নির্মাণ শ্রমিক। যে নারী কয়েক বছর আগেও ঘরসংসারে সীমাবদ্ধ ছিলেন, তিনিও আজ পুরুষের সঙ্গে সমানতালে শ্রম দিচ্ছেন। এতে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও মূলত এটি গ্রামীণ অর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থারই ইঙ্গিত দেয়।
কিছু ফটকাবাজ ও দালাল শ্রেণির মানুষ ভালো আছে। কিন্তু বিত্তহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে অবিরাম। নতুন–পুরনো মিলিয়ে এই শ্রেণির বিস্তার ভয়াবহ ও করুণ। প্রাচুর্যের যত প্রচারই হোক, তা যে সর্বাংশে সত্য নয়—এই সফরে তা বেদনাহত মনে প্রত্যক্ষ করলাম।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন অবশ্যই চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিয়মিতকরণ এতে সুফল এনেছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রাথমিক শিক্ষায় নারীদের ব্যাপক নিয়োগ ছিল যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। সেই ধারা অব্যাহত থাকায় বিশেষত মেয়েরা উপকৃত হয়েছে—উপকৃত হয়েছে জাতিও।
পরিবেশ পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। রঘুনন্দন পাহাড় প্রায় ন্যাড়া হয়ে গেছে। বনজ সম্পদ—ছন, বাঁশ, শাল, সেগুনসহ নানা প্রজাতির গাছপালা চোখে পড়ে না। বনমোরগ, মায়াহরিণ বা বার্কিং ডিয়ারের মতো বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। মানুষের অবাধ আনাগোনা, আবাসন বিস্তার, পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং নির্বিচারে বন উজাড়—সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এর খেসারত আমরা এখন দিচ্ছি।
প্রকৃতি একসময় আমাদের জন্য যে উদারতার দরজা খুলে রেখেছিল, আজ তা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, তবে গ্রাম বাংলাদেশ শুধু স্মৃতির পাতায়ই টিকে থাকবে—বাস্তবে নয়।