ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান Logo মাধবপুরের আব্দুল কাইয়ুমের ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য Logo হবিগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৮১৫ কোটি টাকার প্রকল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo সার ডিলার নিয়োগের তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে, চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি Logo নাসিরনগরে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত Logo হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা Logo লাখাইয়ে মাদক-চুরি রোধে ওয়ার্ডভিত্তিক সভার সিদ্ধান্ত Logo হাইমচরে ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল ও আলোচনা সভা Logo মাধবপুর পৌরসভায় ১,৭০০ গাছ লাগাতে ব্যয় ১৭ লাখ, সরেজমিনে মিলল দেড় শতাধিক Logo মিরপুর-১০-এ ফুটপাত উচ্ছেদ ঘিরে হামলা-ভাঙচুর, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন

ভোগান্তির আরেক নাম জন্ম নিবন্ধন, টাকা দিলেই ম্যানেজ

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও বাস্তবে এই সেবা পেতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন এখনো হয়রানি, দালাল ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কখনো প্রয়োজনীয় আবার কখনো ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে উভয় ক্ষেত্রেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এ জন্ম নিবন্ধন সেবার তথ্য জানতে গেলে অফিস সহকারী জামাল আবেদনকারীদের নাস্তার কক্ষে নিয়ে যান। তিন দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন মিথুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সরাসরি কথা হলে মিথুন জানান, জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব, বিনিময়ে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সিটি করপোরেশনের কেউ নন, বরং একজন দালাল।

এমন চিত্র শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেবাপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, কখনো সার্ভার সমস্যার অজুহাত, কখনো অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। তবে টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে অভিভাবকত্ব প্রমাণ করতে হয়।

সরকার হয়রানি কমাতে জন্ম নিবন্ধন সেবা ডিজিটাল করলেও বাস্তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া জটিল এবং অফিসে গেলে নতুন বিড়ম্বনার শুরু হয়। নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র দিতে না পারলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের শরণাপন্ন হন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে এবং হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন কমানো গেলে ভোগান্তিও কমবে।

জন্ম নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত না হলে জন্ম নিবন্ধন ঘিরে অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

error:

ভোগান্তির আরেক নাম জন্ম নিবন্ধন, টাকা দিলেই ম্যানেজ

আপডেট সময় ০৩:২১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জন্ম নিবন্ধন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার হলেও বাস্তবে এই সেবা পেতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু থাকলেও মাঠপর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন এখনো হয়রানি, দালাল ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কখনো প্রয়োজনীয় আবার কখনো ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশে উভয় ক্ষেত্রেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে একদিকে নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩-এ জন্ম নিবন্ধন সেবার তথ্য জানতে গেলে অফিস সহকারী জামাল আবেদনকারীদের নাস্তার কক্ষে নিয়ে যান। তিন দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি মুঠোফোনে পরিচয় করিয়ে দেন মিথুন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সরাসরি কথা হলে মিথুন জানান, জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা ছাড়াই ঢাকা থেকে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব, বিনিময়ে দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সিটি করপোরেশনের কেউ নন, বরং একজন দালাল।

এমন চিত্র শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেবাপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, কখনো সার্ভার সমস্যার অজুহাত, কখনো অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয়। তবে টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে অভিভাবকত্ব প্রমাণ করতে হয়।

সরকার হয়রানি কমাতে জন্ম নিবন্ধন সেবা ডিজিটাল করলেও বাস্তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া জটিল এবং অফিসে গেলে নতুন বিড়ম্বনার শুরু হয়। নিয়মবহির্ভূত কাগজপত্র দিতে না পারলে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের শরণাপন্ন হন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে এবং হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন কমানো গেলে ভোগান্তিও কমবে।

জন্ম নিবন্ধন ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্টসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হয়। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত না হলে জন্ম নিবন্ধন ঘিরে অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।