ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে Logo মাধবপুর কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ধীরেন্দ্র পাল, সেক্রেটারি তপন দেবনাথ Logo মাধবপুরে ট্রাকভর্তি বালুর নিচে মিলল ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা: বিজিবির অভিযান Logo কুবির অর্থনীতি ক্লাবের নেতৃত্বে আসাদ-মাহফুজুল, নতুন কমিটি ঘোষণা Logo বাহুবলে ক্লিন ইমেজের প্রশাসক চান এলাকাবাসী: আলোচনায় আলমগীর খাঁন রানা Logo হত্যাসহ ৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী Logo অন্যায়কারী আমাদের সহানুভূতি পাবে না: মাধবপুরে এমপি সৈয়দ ফয়সল Logo মাধবপুরে টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ Logo লাখাইয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের ডাক দিলেন সংসদ সদস্য জি কে গউছ Logo বাহুবলে আধুনিক উপজেলা গড়ার প্রতিশ্রুতি: ডক্টর রেজা কিবরিয়া

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন নেই—এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের দেওয়া ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

এর আগে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় বলে বিবেচিত হতো। তবে আদালতের মতে, এই ব্যাখ্যা মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান শিথিল করে বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির আওতায় আনা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই মামলা গেলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বাবার কবর জিয়ারতে মাধবপুরের গ্রামের বাড়িতে

error:

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন নেই—এমন গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি স্ত্রী নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি কোথাও স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের দেওয়া ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে স্ত্রী অনুমতি বাধ্যতামূলক করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

এর আগে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় বলে বিবেচিত হতো। তবে আদালতের মতে, এই ব্যাখ্যা মুসলিম পারিবারিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান শিথিল করে বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির আওতায় আনা হয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্থিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে এই মামলা গেলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করবে।