
হবিগঞ্জসহ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চলে গেলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী যোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুকোমল রায় (৭৫)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তরুণ বয়স থেকেই সুকোমল রায় মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নির্ভীক চিত্তে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিভিন্ন ফ্রন্টে জীবন বাজি রেখে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর নেতৃত্ব, বীরত্ব ও অদম্য মনোবল বহু সহযোদ্ধাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।
স্বাধীনতার পরও তিনি থেমে থাকেননি। সক্রিয় রাজনীতির মাধ্যমে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমৃত্যু লড়ে গেছেন। জেল-জুলুম, হুলিয়া ও নির্বাসন—রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি কখনও আদর্শচ্যুত হননি। দেশপ্রেম ও ন্যায়পরায়ণতাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক শক্তি।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশ একজন সৎ, সাহসী ও আদর্শবাদী নেতাকে হারালো—যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকোমল রায়ের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দেশবাসী দোয়া করেছেন।
দেশপ্রেম, ত্যাগ ও আদর্শের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ইতিহাসে চিরভাস্বর থাকবেন সুকোমল রায়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























