
সুজন চক্রবর্তী, ভারত প্রতিনিধি:
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিদিন সুন্দরবনের নদীতে কাঁকড়া ও মাছ ধরতেন পশ্চিমবঙ্গের পাথরপ্রতিমার প্রণতি প্রামানিক। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে সেই নদীতেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা—পিছন থেকে এক বিশাল কুমির আক্রমণ করে তাঁকে টেনে নিয়ে যেতে চায় গভীর জলে। প্রাণপণ লড়াই করে কুমিরের মুখ থেকে ফিরে এলেন তিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, শরীরের একাধিক স্থানে রয়েছে গভীর ক্ষত।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনশ্যামনগরের অশ্বিনী মাইতির খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রণতি প্রামানিক (৩৭) পেশায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারি। তাঁর স্বামী গৌতম প্রামানিক একজন পরিযায়ী শ্রমিক, সংসারের চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রতিদিন নদীতে নেমে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রণতি।
ঘটনার সময় নদীর জলে মনোযোগ দিয়ে কাঁকড়া ধরছিলেন তিনি। হঠাৎ পিছন থেকে এক বিশাল কুমির ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে কামড়ে ধরে গভীর জলে টেনে নিতে চায়। আতঙ্কিত হলেও হাল ছাড়েননি প্রণতি। প্রাণ বাঁচাতে নদীর ধারে থাকা একটি গাছের ডাল ধরে ফেলেন এবং পরনের কাপড় গাছে জড়িয়ে নিজেকে শক্ত করে বাঁধেন। কুমিরের কামড় ও লেজের আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়, তবুও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কুমিরের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি।
অবশেষে তাঁর আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসেন এবং নদীর ধারে কুমিরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত কুমিরটি মুখের শিকার ছেড়ে নদীতে ফিরে যায়। পরে স্থানীয়রা প্রণতিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাথরপ্রতিমা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা জানান, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত রয়েছে, তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। স্থানীয়রা বলছেন, “প্রণতির সাহসিকতা অবিশ্বাস্য—মৃত্যুর মুখ থেকেও তিনি হাল ছাড়েননি।”
এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় প্রণতি প্রামানিকের বীরত্বের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 


























