
মোঃ সাগর আহমেদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিঘলবাক ইউনিয়নের কুমারকাঁদা এলাকায় কুশিয়ারা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় নিখোঁজ হওয়া এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। সোমবার সকালে কুশিয়ারা নদীর তলদেশ থেকে নিখোঁজ শ্রমিক মোঃ গোলাম রাব্বি (৩২)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় গোলাম রাব্বি নৌকার নিচের অংশে ফাটল দেখা দিলে তা মেরামতের জন্য নদীতে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পানির স্রোতে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা ও সহকর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।
নিখোঁজ শ্রমিক গোলাম রাব্বি বরিশাল জেলার বরগুনা উপজেলার মরহুম আব্দুল হকের পুত্র। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, কুশিয়ারা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ ও অন্যান্য প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ৯টার দিকে তারা নদীর তলদেশ থেকে নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, “অন্ধকারের কারণে রাতে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। সকালে অভিযান শুরু করে আমরা নদীর তলদেশ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করি।”
ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজের পরিচালক ওযাহিদুল করিম চৌধুরী দাবি করেন, “আমরা তিনদিন ধরে বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। এখানে আমাদের শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান জানান, “নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















