ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

মাধবপুর-চুনারুঘাটের ৫ চা বাগানে ৯ দিন রেশন বন্ধ, ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিককে ১৭ টন চাল দিলেন শাফকাত

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের শ্রমিকদের রেশন উত্তোলন গত ৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে খাদ্যসংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। একদিকে কর্মবিরতি, অন্যদিকে বকেয়া মজুরি, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থসহ অন্যান্য পাওনা না পাওয়ায় বাগানগুলোতে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাঁচটি চা বাগানের ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিকের মধ্যে ১৭ টন চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। প্রত্যেক শ্রমিক পরিবারকে দেওয়া হয় পাঁচ কেজি করে চাল।

সহায়তা পাওয়া বাগানগুলো হলো—মাধবপুরের নোয়াপাড়া এবং চুনারুঘাটের লালচাঁদ, রঘুনন্দন, দেউন্দি ও গিলানী চা বাগান। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক বিবেচনা থেকে সংকটাপন্ন শ্রমিক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি চলায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি রেশন না পাওয়ায় পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত রোববার বাগানগুলো খুলে দেওয়া, বকেয়া মজুরি, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আবেদনের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মালিকপক্ষও শ্রমিকদের দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

চা শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, গত ৯ দিন ধরে বাগানগুলোতে কর্মবিরতি চলছে। মালিকপক্ষ বকেয়া রেশন, মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসেনি। এমন খাদ্যসংকটের সময়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চাল নিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এ সহযোগিতা অসহায় পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকঋণ পাওয়ার জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন। ঋণ পেলে বাগানের চলমান সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে তাঁদের চরম তহবিল সংকট চলছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, চা বাগানগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং বাগানগুলো চালুর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের খাদ্যসংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বার্তা প্রেরক: মোঃ আইয়ুব খান

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

মাধবপুর-চুনারুঘাটের ৫ চা বাগানে ৯ দিন রেশন বন্ধ, ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিককে ১৭ টন চাল দিলেন শাফকাত

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের শ্রমিকদের রেশন উত্তোলন গত ৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে খাদ্যসংকটে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। একদিকে কর্মবিরতি, অন্যদিকে বকেয়া মজুরি, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থসহ অন্যান্য পাওনা না পাওয়ায় বাগানগুলোতে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাঁচটি চা বাগানের ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিকের মধ্যে ১৭ টন চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। প্রত্যেক শ্রমিক পরিবারকে দেওয়া হয় পাঁচ কেজি করে চাল।

সহায়তা পাওয়া বাগানগুলো হলো—মাধবপুরের নোয়াপাড়া এবং চুনারুঘাটের লালচাঁদ, রঘুনন্দন, দেউন্দি ও গিলানী চা বাগান। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক বিবেচনা থেকে সংকটাপন্ন শ্রমিক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি চলায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি রেশন না পাওয়ায় পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত রোববার বাগানগুলো খুলে দেওয়া, বকেয়া মজুরি, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আবেদনের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মালিকপক্ষও শ্রমিকদের দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

চা শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, গত ৯ দিন ধরে বাগানগুলোতে কর্মবিরতি চলছে। মালিকপক্ষ বকেয়া রেশন, মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসেনি। এমন খাদ্যসংকটের সময়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চাল নিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এ সহযোগিতা অসহায় পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।

দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকঋণ পাওয়ার জন্য তাঁরা চেষ্টা করছেন। ঋণ পেলে বাগানের চলমান সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে তাঁদের চরম তহবিল সংকট চলছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, চা বাগানগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং বাগানগুলো চালুর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের খাদ্যসংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

বার্তা প্রেরক: মোঃ আইয়ুব খান