ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা Logo হাইমচরের উত্তর আলগীতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা Logo মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গলে বিজিবির অভিযান, দেড় লাখ টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ Logo মাধবপুরে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার মামলায় আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড Logo আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ, লাখাইয়ের ডোবা থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার Logo হাইমচরে ১৫১ ধারায় তিনজন গ্রেপ্তার Logo তেঁতুলিয়ায় বাড়ছে শীতের আমেজ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৪ ডিগ্রি Logo পাওয়ার প্লেতে বিশ্বরেকর্ড, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ ভারতের Logo ঢাকা-সিলেট যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনা, চার লেন হচ্ছে সরাইল-লাখাই মহাসড়ক Logo মাধবপুর উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির নির্বাচন ১৪ নভেম্বর, ১৩ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম

জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন নামে এক নারী। তিনি জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জামালপুর শহরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার একটি হাসপাতাল ও ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁকে আরও একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হওয়ার তথ্যও রয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামালপুর সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এম. এ. রশীদ হাসপাতালের পরিচালক ও জেনারেল সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সাবরিনা বরকতকে। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষের দাবি, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২০ জানুয়ারি সাবেরী শারমিনকে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়সংলগ্ন সংক্রমণ এবং ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকার কথা জানান। পরে ২৯ জানুয়ারি তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণের বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট সম্মতিও নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার পরিকল্পনা ও বাস্তবে সম্পাদিত অস্ত্রোপচারের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর জ্বর, বমি, তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ ছাড়া পেটে স্থাপিত ড্রেন টিউব দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হতে থাকে। এসব উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানে অবহেলা করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর Exploratory Laparotomy ও Peritoneal Toileting অস্ত্রোপচার করা হয়। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পেটের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা এবং দূষিত তরল পরিষ্কারের জন্য এই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছিল।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হয়। এটি বৃহদান্ত্রের অংশ ও যোনিপথের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হওয়ার একটি জটিল শারীরিক অবস্থা।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ তাঁর Exploratory Laparotomy ও Diversion Loop Ileostomy করা হয়। পরে ২০ জুন Exploratory Laparotomy ও Ileostomy Reversal অস্ত্রোপচার করা হয়। মামলার আরজিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় Rectosigmoid Junction ও Vaginal Vault-এর মধ্যকার ফিস্টুলাসংক্রান্ত সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছে গত ২৭ আগস্ট আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় পরে আদালতে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মন্তব্য করতে বা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

জামালপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

error:

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১২:৩৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম

জামালপুরের এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন সাবেরী শারমিন নামে এক নারী। তিনি জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি জামালপুর শহরের সরদারপাড়ায় অবস্থিত এম. এ. রশীদ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে ঢাকার একটি হাসপাতাল ও ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাঁকে আরও একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হওয়ার তথ্যও রয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামালপুর সদর আমলি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এম. এ. রশীদ হাসপাতালের পরিচালক ও জেনারেল সার্জারির কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এবং অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সাবরিনা বরকতকে। মামলাটি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় দায়ের করা হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আরজিতে বাদীপক্ষের দাবি, তলপেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২০ জানুয়ারি সাবেরী শারমিনকে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়সংলগ্ন সংক্রমণ এবং ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকার কথা জানান। পরে ২৯ জানুয়ারি তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অপসারণের বিষয়ে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট সম্মতিও নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার পরিকল্পনা ও বাস্তবে সম্পাদিত অস্ত্রোপচারের মধ্যে অসামঞ্জস্য ছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর জ্বর, বমি, তীব্র পেটব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ ছাড়া পেটে স্থাপিত ড্রেন টিউব দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হতে থাকে। এসব উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানে অবহেলা করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর Exploratory Laparotomy ও Peritoneal Toileting অস্ত্রোপচার করা হয়। বাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পেটের ভেতরের অবস্থা পরীক্ষা এবং দূষিত তরল পরিষ্কারের জন্য এই অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়েছিল।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাঁর Colovaginal Fistula শনাক্ত হয়। এটি বৃহদান্ত্রের অংশ ও যোনিপথের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হওয়ার একটি জটিল শারীরিক অবস্থা।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ তাঁর Exploratory Laparotomy ও Diversion Loop Ileostomy করা হয়। পরে ২০ জুন Exploratory Laparotomy ও Ileostomy Reversal অস্ত্রোপচার করা হয়। মামলার আরজিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সময় Rectosigmoid Junction ও Vaginal Vault-এর মধ্যকার ফিস্টুলাসংক্রান্ত সংযোগের বিষয়টি উঠে আসে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছে গত ২৭ আগস্ট আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। তবে বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় পরে আদালতে মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম. এ. রশীদ হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মন্তব্য করতে বা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

জামালপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাদীপক্ষের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।