
সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য গুরুতর অনিয়মের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ জানাতে বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীরা মন্ত্রণালয়ে আসছেন। গত রোববার সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত নারী আসনের তিনজন সংসদ সদস্য এবং কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের অভিযোগ জানান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস সোমবারও অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ থেকে ছয়টি আবেদন জমা পড়ে। এর আগে একই বিষয়ে প্রায় ৫০০টি আবেদন জমা হয়েছিল।
অন্যদিকে, গত সোমবার ঝিনাইদহে একটি অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আইনি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
আগামী নভেম্বর থেকে সারের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। এ সময় আলু, ভুট্টা, গম ও শীতকালীন সবজি চাষে সারের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগও ওঠায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ে।
তবে সার ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে সারের মজুতে ঘাটতি নেই। ‘আমার দেশ’-কে তাঁরা জানান, সৌদি আরব, বেলারুশ, মরক্কো ও কানাডা থেকে সার আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভরা মৌসুমে চাহিদা বাড়ার আগেই ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের দিকে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের তদারকি কমিটির সুপারিশে অনিয়ম, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের সুপারিশের পেছনের কারণ এবং নীতিমালা লঙ্ঘন করে কাউকে ডিলার হিসেবে নির্বাচনের কারণ অনুসন্ধান।
মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দাবি, প্রভাবশালী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং আমলাদের কেউ কেউ পছন্দের ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কৃষিমন্ত্রী ও সচিবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তবে এসব তদবির উপেক্ষা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তাঁদের ভাষ্য, বাছাই কমিটির তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে অনিয়মের অভিযোগগুলোর যাচাই-বাছাই শেষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















