ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৪০ বছর ধরে ক্যামেরা কাঁধে, নিজের গল্পই অজানা।সবার গল্প বন্দী করেন, নিজের গল্পই অন্ধকারে। Logo মাধবপুরে আলিফলাম বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে আলিফলাম বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo সাতছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় মনতলা বাজারের ব্যবসায়ী নিহত Logo রেজা কিবরিয়াকে সভাপতি করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবি-র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ১০ টন ভারতীয় জিরাসহ আটক ৩ Logo মাধবপুরে স্কাউটের উপদল নেতা ও ষষ্ঠক নেতা কোর্সের উদ্বোধন Logo লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৪ রোগী Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে শাহ বায়েজিদ ইসলামী একাডেমির সভাপতি মো. ফজলে রাব্বি

৪০ বছর ধরে ক্যামেরা কাঁধে, নিজের গল্পই অজানা।সবার গল্প বন্দী করেন, নিজের গল্পই অন্ধকারে।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিকাঁধে ক্যামেরা। ছুটে চলেছেন গ্রামের মেঠোপথ ধরে। কখনও চা-বাগানে, কখনও পাহাড়ের পাদদেশে, আবার কখনও কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা সভা-সমাবেশে। চার দশক ধরে এভাবেই মানুষের জীবনের গল্প ক্যামেরায় বন্দী করে চলেছেন চুনারুঘাটের পাকুড়িয়া গ্রামের বাবুল মিয়া। কিশোর বয়সে যে নেশা শুরু হয়েছিল, বয়সের ভারেও তা থামেনি। তবে অন্যের জীবনের অসংখ্য মুহূর্ত ছবিতে ধরে রাখলেও নিজের জীবনের গল্পটিই যেন রয়ে গেছে অগোচরে।

প্রায় ৪০ বছর আগে যখন মোবাইল ফোনে ছবি তোলার সুযোগ ছিল না, তখন ক্যামেরা ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলার সামর্থ্যও ছিল না অনেকের। সেই সময় বাবুল মিয়া ক্যামেরা নিয়ে ছুটে বেড়াতেন হাটে-মাঠে-ময়দানে। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সহজলভ্য একজন আলোকচিত্রী। মানুষের প্রয়োজনেই ছবি তুলতেন, পৌঁছে দিতেন তাঁদের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের স্মৃতি।

বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে পাহাড়, নদী ও চা-বাগানের প্রকৃতি—কী নেই তাঁর ক্যামেরার ফ্রেমে! স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিভিন্ন সময় সংবাদ ও ঘটনার ছবি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

কিন্তু দীর্ঘ এই পথচলায় তাঁর নিজের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেই কোনো পদ-পদবি, নেই বড় কোনো স্বীকৃতি। আর্থিক অনটনও পিছু ছাড়েনি। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে পেশা হিসেবে তাঁর কাজের গুরুত্ব কমলেও ছবি তোলার নেশা কমেনি।

চুনারুঘাটের সমাজকর্মী শেখ আরাবি হামজা বলেন, ছবির নেশায় বাবুল মিয়ার জীবনের চার দশক কেটে গেছে। অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে তিনি ক্যামেরার টানেই ছুটে চলেছেন। বিশেষ করে চা-বাগানের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। একসময় এসব মানুষের ছবি তোলার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। তখন বাবুল মিয়া তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

গণমাধ্যমকর্মী আবুল কালাম বলেন, ফটোসাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় বাবুল মিয়ার অনেক অবদান রয়েছে। আগে কোনো ঘটনার ছবি তোলা ছিল কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তখন তিনি গ্রাম থেকে চা-বাগান পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ঘুরে ছবি তুলতেন এবং সংবাদকর্মীদের দিতেন। দীর্ঘদিন কাজ করেও বর্তমানে তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়।

বাবুল মিয়া বলেন, ‘নিজের এতগুলো জীবন কীভাবে চলে গেছে, জানি না। এখনও ক্যামেরা নিয়ে বের হই। চা-বাগান, পাহাড়, নদী, বিয়ে-বাড়ি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারার ছবি তুলি। জীবনটা ক্যামেরা আর ছবি তুলতেই কাটিয়ে দিয়েছি। জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। যতদিন জীবন আছে, ততদিন আমার ছবি তোলা থামবে না।’ চার দশকে বাবুল মিয়ার ক্যামেরায় বন্দী হয়েছে চুনারুঘাটের মানুষের অসংখ্য হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, প্রকৃতি ও বদলে যাওয়া সময়ের ছবি। মানুষের গল্পকে তিনি রঙিন করে তুলেছেন। অথচ নিজের গল্পটাই থেকে গেছে সাদাকালো—স্বীকৃতি ও আলোচনার আড়ালে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

৪০ বছর ধরে ক্যামেরা কাঁধে, নিজের গল্পই অজানা।সবার গল্প বন্দী করেন, নিজের গল্পই অন্ধকারে।

error:

৪০ বছর ধরে ক্যামেরা কাঁধে, নিজের গল্পই অজানা।সবার গল্প বন্দী করেন, নিজের গল্পই অন্ধকারে।

আপডেট সময় ০৭:২৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিকাঁধে ক্যামেরা। ছুটে চলেছেন গ্রামের মেঠোপথ ধরে। কখনও চা-বাগানে, কখনও পাহাড়ের পাদদেশে, আবার কখনও কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা সভা-সমাবেশে। চার দশক ধরে এভাবেই মানুষের জীবনের গল্প ক্যামেরায় বন্দী করে চলেছেন চুনারুঘাটের পাকুড়িয়া গ্রামের বাবুল মিয়া। কিশোর বয়সে যে নেশা শুরু হয়েছিল, বয়সের ভারেও তা থামেনি। তবে অন্যের জীবনের অসংখ্য মুহূর্ত ছবিতে ধরে রাখলেও নিজের জীবনের গল্পটিই যেন রয়ে গেছে অগোচরে।

প্রায় ৪০ বছর আগে যখন মোবাইল ফোনে ছবি তোলার সুযোগ ছিল না, তখন ক্যামেরা ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তোলার সামর্থ্যও ছিল না অনেকের। সেই সময় বাবুল মিয়া ক্যামেরা নিয়ে ছুটে বেড়াতেন হাটে-মাঠে-ময়দানে। বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সহজলভ্য একজন আলোকচিত্রী। মানুষের প্রয়োজনেই ছবি তুলতেন, পৌঁছে দিতেন তাঁদের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের স্মৃতি।

বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন, সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে পাহাড়, নদী ও চা-বাগানের প্রকৃতি—কী নেই তাঁর ক্যামেরার ফ্রেমে! স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও বিভিন্ন সময় সংবাদ ও ঘটনার ছবি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি।

কিন্তু দীর্ঘ এই পথচলায় তাঁর নিজের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। নেই কোনো পদ-পদবি, নেই বড় কোনো স্বীকৃতি। আর্থিক অনটনও পিছু ছাড়েনি। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে পেশা হিসেবে তাঁর কাজের গুরুত্ব কমলেও ছবি তোলার নেশা কমেনি।

চুনারুঘাটের সমাজকর্মী শেখ আরাবি হামজা বলেন, ছবির নেশায় বাবুল মিয়ার জীবনের চার দশক কেটে গেছে। অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে তিনি ক্যামেরার টানেই ছুটে চলেছেন। বিশেষ করে চা-বাগানের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। একসময় এসব মানুষের ছবি তোলার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। তখন বাবুল মিয়া তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

গণমাধ্যমকর্মী আবুল কালাম বলেন, ফটোসাংবাদিকতা ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় বাবুল মিয়ার অনেক অবদান রয়েছে। আগে কোনো ঘটনার ছবি তোলা ছিল কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তখন তিনি গ্রাম থেকে চা-বাগান পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ঘুরে ছবি তুলতেন এবং সংবাদকর্মীদের দিতেন। দীর্ঘদিন কাজ করেও বর্তমানে তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়।

বাবুল মিয়া বলেন, ‘নিজের এতগুলো জীবন কীভাবে চলে গেছে, জানি না। এখনও ক্যামেরা নিয়ে বের হই। চা-বাগান, পাহাড়, নদী, বিয়ে-বাড়ি, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারার ছবি তুলি। জীবনটা ক্যামেরা আর ছবি তুলতেই কাটিয়ে দিয়েছি। জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। যতদিন জীবন আছে, ততদিন আমার ছবি তোলা থামবে না।’ চার দশকে বাবুল মিয়ার ক্যামেরায় বন্দী হয়েছে চুনারুঘাটের মানুষের অসংখ্য হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, প্রকৃতি ও বদলে যাওয়া সময়ের ছবি। মানুষের গল্পকে তিনি রঙিন করে তুলেছেন। অথচ নিজের গল্পটাই থেকে গেছে সাদাকালো—স্বীকৃতি ও আলোচনার আড়ালে।