
জালাল উদ্দিন লস্কর
স্টাফ রিপোর্টার একসময় বিকেল হলেই শিশু-কিশোর ও তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠত মাঠটি। ফুটবল-ক্রিকেটের খেলায় জমে উঠত প্রাণচাঞ্চল্য, আর দর্শকদের উপস্থিতিতে তৈরি হতো উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত।
দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশনের উত্তর পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি বর্তমানে অনেকটাই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিশু-কিশোর ও যুবসমাজ তাদের অন্যতম বিনোদন ও শরীরচর্চার স্থানটি হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি খেলাধুলার অন্যতম পরিচিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সুরমা চা বাগান ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর এবং তরুণরা নিয়মিত এখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতেন। বিকেল হলেই মাঠটি পরিণত হতো কিশোর-তরুণদের মিলনমেলায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঠটির সঙ্গে এলাকার অনেক মানুষের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন সময়ে এখানে স্থানীয়ভাবে ফুটবল ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তানরাও এই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পেতেন। ফলে মাঠটি শুধু খেলাধুলার স্থানই ছিল না, এটি ছিল স্থানীয় যুবসমাজের সুস্থ বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে মাঠটির বিভিন্ন অংশে আগাছা ও ঝোপঝাড় বেড়ে উঠেছে। খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ না থাকায় শিশু-কিশোর ও তরুণরা সেখানে নিয়মিত খেলতে পারছেন না। পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে অনেকেই অবসর সময় ঘরে বা অনলাইনে কাটাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী বলছেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে খেলার মাঠের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাঠটি সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করা গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণরা নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে তারা নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকার সুযোগ পাবে।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত মাঠটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করা হোক। পাশাপাশি মাঠটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এটি আবারও তেলিয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের প্রাণের ঠিকানায় পরিণত হতে পারে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















