
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাওরাঞ্চলীয় বিদ্যাপীঠ লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজ এখন নতুন ও আধুনিক রূপ পেয়েছে। বর্তমান অধ্যক্ষের দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীবান্ধব চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক তদারকির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা ও সৌন্দর্য—দুই ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রফেসর মোহাম্মদ হামজা মাহমুদ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তদারকি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘মেন্টর গ্রুপ’ ব্যবস্থা। নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষককে মেন্টর বা গাইড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ক্লাসে উপস্থিতি বাড়ছে এবং ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে কলেজ সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষার পাশাপাশি কলেজের ভৌত অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। অধ্যক্ষের বিশেষ উদ্যোগে ক্যাম্পাসে তৈরি করা হয়েছে ফুলের বাগান। সবুজের সমারোহ ও নানা রঙের ফুলে সাজানো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয়েছে আরও মনোরম ও প্রফুল্ল পরিবেশ।
এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং লাইব্রেরি ও বিজ্ঞানাগারের উন্নয়নের মাধ্যমে কলেজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন যোগ্য ও দূরদর্শী প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং নিষ্ঠা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রফেসর মোহাম্মদ হামজা মাহমুদের নেতৃত্বে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজে চলমান পরিবর্তন তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজ হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং জেলার একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















