ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান Logo বড় স্যারের খায়েশ Logo শিক্ষার মানোন্নয়নে দুই মাস পরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে বসবেন এমপি মানিক Logo গল্লাক কলেজের গভর্নিং বডিতে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন এম এ হান্নান Logo খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে সরকার: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সম্পাদকদের বৃহৎ মতবিনিময়, সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আইন সংস্কারের দাবি Logo পদত্যাগ করলেন জহির উদ্দিন স্বপন Logo ওমরাহ করলেন আসিফ মাহমুদ Logo আজ থেকে শুরু কলেরা টিকার ক্যাম্পেইন Logo সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বড় স্যারের খায়েশ

জালাল উদ্দিন লস্কর
রেজাল্ট প্রকাশের পরদিন মানিকতলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক কাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালামত আলীকে ফোন দিলেন পরিচিত সাংবাদিক রহিমুদ্দিন।

—হ্যালো…

—স্যার, আসসালামু আলাইকুম।

—ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?

—জ্বি, ভালো আছি স্যার। তো, আপনাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এইচএসসিতে কয়জন পাশ করল স্যার?
—সবাই পাশ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। সবাই! —কথার সঙ্গে হাসিও শোনা গেল।

—সবাই পাশ করেছে, ভালো খবর। আমি জানতে চাচ্ছিলাম, মোট কতজন পাশ করেছে? অর্থাৎ কতজন পরীক্ষার্থী ছিল?

—ওই যে বললাম, সবাই।

—আপনি তাহলে স্যার ঠিক জানেন না, কতজন পরীক্ষা দিয়েছিল?

—না, মানে… ইয়ে… আপনি এক কাজ করেন…
—কী কাজ স্যার?

—আপনি অমুক মাস্টারকে ফোন দেন। উনি জানেন হয়তো।

—আপনি তাহলে জানেন না, অথবা এই মুহূর্তে সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারছেন না—তাই তো?

—দেন না, অমুককে একটা ফোন দেন।

বড় স্যারের কথা মতো অমুক স্যারকে ফোন দেওয়া হলো। তাঁর দুটি নম্বরেই ফোন করে পাওয়া গেল—দুটিই বন্ধ।

তখন রহিমুদ্দিনের মনে পড়ল পরিচিত আরেক শিক্ষক সলিমুদ্দিন স্যারের কথা। তাঁকেই ফোন দিলেন।
—হ্যালো, স্লামালিকুম রহিমুদ্দিন ভাই। কেমন আছেন?
—ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? আপনাদের রেজাল্ট কেমন হলো?

—খুব ভালো রেজাল্ট। সবাই পাশ। শতভাগ পাশ। বলতে পারেন, এই প্রথম এখান থেকে শতভাগ পাশ করল। তবে এ প্লাস পায়নি কেউ।

—এ প্লাস পায়নি বলে মন খারাপ করবেন না স্যার। সামনের বছর না হয় তার পরের বছর পাবে। তাতে কী! এর আগেও তো কেউ কখনো এ প্লাস পায়নি।

—না, মানে… ইয়ে… এইবার তো অটোপাশ দিছে। তাই ধরে নিয়েছিলাম এ প্লাস আসতেও পারে। তাহলে একটা চমক তৈরি হতো ভাই!

—মোট কতজন পাশ করেছে জানেন?

—এখন তো মারছেন ভাই! সবাই পাশ করেছে।

—মোট কয়জন, সেটা জানতে চাইছি।

—আপনে আমারে আধা মিনিট সময় দেন ভাই। আমি দেখতাছি।

ফোনের ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। এরপর শোনা গেল—
—কলিমুদ্দিন! ও কলিমুদ্দিন! আমাদের এখান থেকে এবার কতজন পরীক্ষা দিয়েছিল?

অফিস সহকারী কলিমুদ্দিনের উত্তর—
—২০ জন স্যার। সবাই পাশ করেছে স্যার।

সলিমুদ্দিন স্যার আবার ফোনে এলেন।

—হ্যাঁ, রহিমুদ্দিন ভাই। ২০ জন।

—ধন্যবাদ স্যার।

—আসেন একদিন। মিষ্টি খাওয়ার দাওয়াত রইল ভাই। ও হ্যাঁ, আজ একটু আগেও হেড স্যার সবাইকে ডেকে বলেছেন, শতভাগ পাশের ব্যাপারটা একটু উদযাপন করা দরকার। কমিটির লোকজন, গণ্যমান্য দুই-চারজন আর প্রেসের কয়েকজনকে দাওয়াত করে এনে মিষ্টিমুখ করাতে চান হেড স্যার। তখন পেপার-পত্রিকাতেও কাভারেজ পাওয়া যাবে।

—অবশ্যই আসব। জানাতে ভুলবেন না যেন। রাখি।
ফোন রেখে রহিমুদ্দিন কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।
মাত্র ২০ জন পরীক্ষার্থী। সবাই পাশ করেছে। আর বড় স্যারের খায়েশ—শতভাগ পাশের উৎসব, মিষ্টিমুখ, দাওয়াত আর পত্রিকার কাভারেজ!

৩১ জানুয়ারি ২০২১

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

হাইমচরে মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবি, ২০ আগস্টকে ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম দিবস’ ঘোষণার আহ্বান

error:

বড় স্যারের খায়েশ

আপডেট সময় ১০:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর
রেজাল্ট প্রকাশের পরদিন মানিকতলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক কাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছালামত আলীকে ফোন দিলেন পরিচিত সাংবাদিক রহিমুদ্দিন।

—হ্যালো…

—স্যার, আসসালামু আলাইকুম।

—ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?

—জ্বি, ভালো আছি স্যার। তো, আপনাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এইচএসসিতে কয়জন পাশ করল স্যার?
—সবাই পাশ করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। সবাই! —কথার সঙ্গে হাসিও শোনা গেল।

—সবাই পাশ করেছে, ভালো খবর। আমি জানতে চাচ্ছিলাম, মোট কতজন পাশ করেছে? অর্থাৎ কতজন পরীক্ষার্থী ছিল?

—ওই যে বললাম, সবাই।

—আপনি তাহলে স্যার ঠিক জানেন না, কতজন পরীক্ষা দিয়েছিল?

—না, মানে… ইয়ে… আপনি এক কাজ করেন…
—কী কাজ স্যার?

—আপনি অমুক মাস্টারকে ফোন দেন। উনি জানেন হয়তো।

—আপনি তাহলে জানেন না, অথবা এই মুহূর্তে সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারছেন না—তাই তো?

—দেন না, অমুককে একটা ফোন দেন।

বড় স্যারের কথা মতো অমুক স্যারকে ফোন দেওয়া হলো। তাঁর দুটি নম্বরেই ফোন করে পাওয়া গেল—দুটিই বন্ধ।

তখন রহিমুদ্দিনের মনে পড়ল পরিচিত আরেক শিক্ষক সলিমুদ্দিন স্যারের কথা। তাঁকেই ফোন দিলেন।
—হ্যালো, স্লামালিকুম রহিমুদ্দিন ভাই। কেমন আছেন?
—ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? আপনাদের রেজাল্ট কেমন হলো?

—খুব ভালো রেজাল্ট। সবাই পাশ। শতভাগ পাশ। বলতে পারেন, এই প্রথম এখান থেকে শতভাগ পাশ করল। তবে এ প্লাস পায়নি কেউ।

—এ প্লাস পায়নি বলে মন খারাপ করবেন না স্যার। সামনের বছর না হয় তার পরের বছর পাবে। তাতে কী! এর আগেও তো কেউ কখনো এ প্লাস পায়নি।

—না, মানে… ইয়ে… এইবার তো অটোপাশ দিছে। তাই ধরে নিয়েছিলাম এ প্লাস আসতেও পারে। তাহলে একটা চমক তৈরি হতো ভাই!

—মোট কতজন পাশ করেছে জানেন?

—এখন তো মারছেন ভাই! সবাই পাশ করেছে।

—মোট কয়জন, সেটা জানতে চাইছি।

—আপনে আমারে আধা মিনিট সময় দেন ভাই। আমি দেখতাছি।

ফোনের ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা। এরপর শোনা গেল—
—কলিমুদ্দিন! ও কলিমুদ্দিন! আমাদের এখান থেকে এবার কতজন পরীক্ষা দিয়েছিল?

অফিস সহকারী কলিমুদ্দিনের উত্তর—
—২০ জন স্যার। সবাই পাশ করেছে স্যার।

সলিমুদ্দিন স্যার আবার ফোনে এলেন।

—হ্যাঁ, রহিমুদ্দিন ভাই। ২০ জন।

—ধন্যবাদ স্যার।

—আসেন একদিন। মিষ্টি খাওয়ার দাওয়াত রইল ভাই। ও হ্যাঁ, আজ একটু আগেও হেড স্যার সবাইকে ডেকে বলেছেন, শতভাগ পাশের ব্যাপারটা একটু উদযাপন করা দরকার। কমিটির লোকজন, গণ্যমান্য দুই-চারজন আর প্রেসের কয়েকজনকে দাওয়াত করে এনে মিষ্টিমুখ করাতে চান হেড স্যার। তখন পেপার-পত্রিকাতেও কাভারেজ পাওয়া যাবে।

—অবশ্যই আসব। জানাতে ভুলবেন না যেন। রাখি।
ফোন রেখে রহিমুদ্দিন কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।
মাত্র ২০ জন পরীক্ষার্থী। সবাই পাশ করেছে। আর বড় স্যারের খায়েশ—শতভাগ পাশের উৎসব, মিষ্টিমুখ, দাওয়াত আর পত্রিকার কাভারেজ!

৩১ জানুয়ারি ২০২১