ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

শুক্রবারের পবিত্রতায় দুরুদে মুখর হোক মুমিনের হৃদয়

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব:

সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন শুক্রবার। জুমার আজান, মসজিদমুখী মানুষের পদচারণা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠ—সব মিলিয়ে দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জীবনে নিয়ে আসে এক ভিন্ন আমেজ।

শুক্রবার আসলেই মুমিনের হৃদয়ে যেন জেগে ওঠে ইবাদতের এক বিশেষ অনুভূতি। সকাল থেকে গোসল, পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর পোশাক পরিধান এবং জুমার নামাজের প্রস্তুতির পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইসলামে দুরুদ পাঠ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নবীপ্রেমের প্রকাশ হিসেবে মুসলমানরা প্রতিদিনই দুরুদ পাঠ করেন। তবে শুক্রবারে এর গুরুত্ব আরও বেশি বলে ইসলামী শিক্ষায় বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে শুক্রবারে মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠের কথা এসেছে। ধর্মীয় আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার দিনটি দোয়া ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ দিনে আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-ইস্তিগফার এবং দুরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন তার রবের আরও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

দুরুদ শুধু কয়েকটি শব্দের উচ্চারণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি একজন উম্মতের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য। যাঁর মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে হেদায়াতের পথ, কোরআনের আলো এবং সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা—তাঁর প্রতি সালাম ও দুরুদ পাঠ একজন মুমিনের হৃদয়ে নবীপ্রেমকে আরও গভীর করে।

ব্যস্ত জীবনে মানুষ নানা কাজ, দুশ্চিন্তা ও পার্থিব চিন্তায় ডুবে থাকে। অনেক সময় ইবাদতের জন্য আলাদা সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ পথ চলতে, অবসর সময়ে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য হলেও দুরুদ পাঠ করা যায়। শুক্রবারকে কেন্দ্র করে সেই আমল আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জুমার দিনের পরিবেশও অন্য দিনের চেয়ে আলাদা। দুপুর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শহর ও গ্রামের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কেউ আগে থেকেই মসজিদে গিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করেন, কেউ নফল ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নীরবে দুরুদ ও জিকিরে সময় কাটান। চারপাশের এই ধর্মীয় পরিবেশ একজন মুসলমানের মনকে ইবাদতের দিকে আকৃষ্ট করে।

ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়, ইবাদত শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের চরিত্র ও কর্মেও এর প্রভাব থাকা প্রয়োজন। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম প্রকাশ হলো তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করা। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে একজন মুসলমান তাঁর জীবনে নবীজির আদর্শ প্রতিফলিত করতে পারেন।

তাই শুক্রবারে দুরুদ পাঠের পাশাপাশি নিজের জীবন ও কর্মের হিসাব নেওয়ারও একটি সুযোগ রয়েছে। আমরা কতটা সত্যের পথে চলছি, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা কতটা অনুসরণ করছি—এসব বিষয় নিয়ে ভাবার দিনও হতে পারে পবিত্র শুক্রবার।

আজকের এই ফজিলতপূর্ণ দিনে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদেরও দুরুদ পাঠের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নবীপ্রেম, নৈতিকতা এবং ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

দুরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁর অন্তরে জাগ্রত হয় ভালোবাসা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের অনুভূতি।

পবিত্র এই শুক্রবারে তাই ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় হোক ইবাদতের জন্য, কিছুটা সময় হোক আত্মশুদ্ধির জন্য। কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও দুরুদ পাঠে মুখর হোক আমাদের সময়।

আসুন, আজকের এই বরকতময় শুক্রবারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ ও সালাম পাঠ করি এবং তাঁর আদর্শকে নিজেদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ (সা.)।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

শুক্রবারের পবিত্রতায় দুরুদে মুখর হোক মুমিনের হৃদয়

আপডেট সময় ১২:২০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব:

সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন শুক্রবার। জুমার আজান, মসজিদমুখী মানুষের পদচারণা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠ—সব মিলিয়ে দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জীবনে নিয়ে আসে এক ভিন্ন আমেজ।

শুক্রবার আসলেই মুমিনের হৃদয়ে যেন জেগে ওঠে ইবাদতের এক বিশেষ অনুভূতি। সকাল থেকে গোসল, পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর পোশাক পরিধান এবং জুমার নামাজের প্রস্তুতির পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইসলামে দুরুদ পাঠ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আমল। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই নবীপ্রেমের প্রকাশ হিসেবে মুসলমানরা প্রতিদিনই দুরুদ পাঠ করেন। তবে শুক্রবারে এর গুরুত্ব আরও বেশি বলে ইসলামী শিক্ষায় বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে শুক্রবারে মহানবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠের কথা এসেছে। ধর্মীয় আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার দিনটি দোয়া ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ দিনে আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-ইস্তিগফার এবং দুরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন তার রবের আরও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

দুরুদ শুধু কয়েকটি শব্দের উচ্চারণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি একজন উম্মতের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য। যাঁর মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে হেদায়াতের পথ, কোরআনের আলো এবং সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা—তাঁর প্রতি সালাম ও দুরুদ পাঠ একজন মুমিনের হৃদয়ে নবীপ্রেমকে আরও গভীর করে।

ব্যস্ত জীবনে মানুষ নানা কাজ, দুশ্চিন্তা ও পার্থিব চিন্তায় ডুবে থাকে। অনেক সময় ইবাদতের জন্য আলাদা সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ পথ চলতে, অবসর সময়ে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে অল্প সময়ের জন্য হলেও দুরুদ পাঠ করা যায়। শুক্রবারকে কেন্দ্র করে সেই আমল আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জুমার দিনের পরিবেশও অন্য দিনের চেয়ে আলাদা। দুপুর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শহর ও গ্রামের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কেউ আগে থেকেই মসজিদে গিয়ে কোরআন তিলাওয়াত করেন, কেউ নফল ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নীরবে দুরুদ ও জিকিরে সময় কাটান। চারপাশের এই ধর্মীয় পরিবেশ একজন মুসলমানের মনকে ইবাদতের দিকে আকৃষ্ট করে।

ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়, ইবাদত শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের চরিত্র ও কর্মেও এর প্রভাব থাকা প্রয়োজন। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার অন্যতম প্রকাশ হলো তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করা। সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে একজন মুসলমান তাঁর জীবনে নবীজির আদর্শ প্রতিফলিত করতে পারেন।

তাই শুক্রবারে দুরুদ পাঠের পাশাপাশি নিজের জীবন ও কর্মের হিসাব নেওয়ারও একটি সুযোগ রয়েছে। আমরা কতটা সত্যের পথে চলছি, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করছি এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা কতটা অনুসরণ করছি—এসব বিষয় নিয়ে ভাবার দিনও হতে পারে পবিত্র শুক্রবার।

আজকের এই ফজিলতপূর্ণ দিনে পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদেরও দুরুদ পাঠের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নবীপ্রেম, নৈতিকতা এবং ইসলামের শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

দুরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সালাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁর অন্তরে জাগ্রত হয় ভালোবাসা, বিনয় এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের অনুভূতি।

পবিত্র এই শুক্রবারে তাই ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় হোক ইবাদতের জন্য, কিছুটা সময় হোক আত্মশুদ্ধির জন্য। কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও দুরুদ পাঠে মুখর হোক আমাদের সময়।

আসুন, আজকের এই বরকতময় শুক্রবারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ ও সালাম পাঠ করি এবং তাঁর আদর্শকে নিজেদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ (সা.)।