
জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া বাজারে মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করার পর তাকে মারধর না করে ২০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের শাস্তি দেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নোয়াপাড়া বাজারে মোবাইল চুরির অভিযোগে ওই যুবককে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাকে ঘিরে বাজারে মানুষের ভিড় জমে। একপর্যায়ে তাকে মারধর না করে ধর্মীয় ইবাদতের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ২০০ রাকাত নফল নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
আটক যুবকের বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে। তিনি তাজু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির মিয়া বলেন, চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে মারধর না করে ধর্মীয় ইবাদতের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আতাউল মোস্তাফা সুহেল বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে কাজটি তারা ঠিক করেনি। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। তাদের উচিত ছিল তাকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া।”
হবিগঞ্জ জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. সাজিদুর রহমান বলেন, “বিচার করার এখতিয়ার বিচার বিভাগের। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়াও অপরাধ। সাধারণ মানুষ নিজেরা আইন হাতে নিয়ে বিচার করতে পারে না। তাদের উচিত ছিল ওই ব্যক্তিকে প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া।”
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। খবর নিয়ে জানতে হবে আসলে কী হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধের অভিযোগে আটক করার পর নিজেরা শাস্তি না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















