ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিশান এনজিওর সাবেক এরিয়া ম্যানেজার জামালের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আমানত আত্মসাতের অভিযোগ Logo হাজীগঞ্জের দুই চিকিৎসক চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক Logo হাজীগঞ্জে অলিপুর ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া এগোনোয় আনন্দ র‍্যালি Logo লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ঢাকায় গিয়ে মিলল ভিন্ন চিত্র Logo মাধবপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবক আটক, শাস্তি হিসেবে ২০০ রাকাত নফল নামাজ Logo ফরিদগঞ্জে হানি ট্রাপ ও প্রতারণার অভিযোগ, লিগ্যাল এইডে আবেদন Logo লাখাইয়ে বুল্লা বাজারে চালু হচ্ছে নারীদের জন্য বিশেষ ‘উইমেন্স কর্নার’ Logo মাধবপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বন্ধ্যাত্ব Logo মাধবপুরে ৪০ লাখ টাকার জমি কিনেও দখলহীন সাজিদ, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে দখলে রাখার অভিযোগ Logo শুক্রবারের পবিত্রতায় দুরুদে মুখর হোক মুমিনের হৃদয়

মাধবপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বন্ধ্যাত্ব

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টারহবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। সার্জন না থাকায় পুরুষদের ভ্যাসেকটমি ও নারীদের লাইগেশন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে এসে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মেরি স্টোপস ক্লিনিক থেকে সিলেটের একজন সার্জন মাধবপুরে এসে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে মেরি স্টোপসের কোনো সার্জন মাধবপুরে আসছেন না।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে বন্ধ রয়েছে ভ্যাসেকটমি ও লাইগেশন কার্যক্রম।

শুধু স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ নয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইমপ্ল্যান্ট, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কনডমের সরবরাহ নেই বললেই চলে। এতে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন সাহা বলেন, “লোকজন সেবা নিতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নেই বললেই চলে।”
তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে তিন বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করা নারীদের অনেকেরই এখন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারা ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। কিন্তু ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও পর্যাপ্ত নেই।

ডা. সুজন সাহা বলেন, প্রতি মাসে ক্যাম্প করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক নারী ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচটি পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের কার্যক্রমও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না থাকায় কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ এবং স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবা ব্যাহত হওয়ায় দুর্গম ও দরিদ্র এলাকার মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডা. সুজন সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংকট শুধু মাধবপুরের নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইমরুল হাসান জানান কিছুদিনের মধ্যেই এ অবস্থার অবসান ঘটবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিবার কল্যাণকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশান এনজিওর সাবেক এরিয়া ম্যানেজার জামালের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আমানত আত্মসাতের অভিযোগ

error:

মাধবপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বন্ধ্যাত্ব

আপডেট সময় ০২:০৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর স্টাফ রিপোর্টারহবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। সার্জন না থাকায় পুরুষদের ভ্যাসেকটমি ও নারীদের লাইগেশন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে এসে অনেককেই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মেরি স্টোপস ক্লিনিক থেকে সিলেটের একজন সার্জন মাধবপুরে এসে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে মেরি স্টোপসের কোনো সার্জন মাধবপুরে আসছেন না।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে বন্ধ রয়েছে ভ্যাসেকটমি ও লাইগেশন কার্যক্রম।

শুধু স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ নয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইমপ্ল্যান্ট, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কনডমের সরবরাহ নেই বললেই চলে। এতে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন সাহা বলেন, “লোকজন সেবা নিতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নেই বললেই চলে।”
তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে তিন বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করা নারীদের অনেকেরই এখন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারা ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। কিন্তু ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও পর্যাপ্ত নেই।

ডা. সুজন সাহা বলেন, প্রতি মাসে ক্যাম্প করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে তাকে ব্যক্তিগতভাবে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক নারী ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করছেন বলেও তিনি জানান।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচটি পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের কার্যক্রমও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না থাকায় কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ এবং স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব সেবা ব্যাহত হওয়ায় দুর্গম ও দরিদ্র এলাকার মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডা. সুজন সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংকট শুধু মাধবপুরের নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইমরুল হাসান জানান কিছুদিনের মধ্যেই এ অবস্থার অবসান ঘটবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিবার কল্যাণকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।