ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে মায়ের অস্থি সংগ্রহ করতে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু Logo এমপির গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo মাধবপুরে বৈকণ্ঠপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, পাল্টা জিডি Logo লাখাইয়ে দপ্তরির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo আজমিরীগঞ্জে ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল নেওয়ার অভিযোগ, এসআইকে প্রত্যাহারের সুপারিশ Logo বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী Logo এক ব্যক্তি একাধিক সার ডিলারশিপের মালিক হতে পারবেন না: নতুন নীতিমালা জারি Logo সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হবিগঞ্জে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo দেশে রেকর্ড লোডশেডিং: ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ভাঙল আগের সব রেকর্ড Logo পিরোজপুরে ১২ পরীক্ষার্থীর জন্য ১১ শিক্ষক: পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নামই জানেন না প্রধান শিক্ষক

এমপির গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

উপজেলা প্রতিনিধি, দিরাই (সুনামগঞ্জ):

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভীন চৌধুরী বাদী হয়ে তাঁর তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মমতাজ বেগমকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে পারভীন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআর অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে পাঠানো হয়। তখন অসুস্থ ও অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দিয়ে একটি দলিলে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হলে তিনি এতে রাজি হননি।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, পরে তাঁর গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় কথাবার্তা শুনে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেন। তখন আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাঁকেও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শেলী চৌধুরী মেঝেতে পড়ে যান।

মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক ওয়াকিব হাসান ওই সময় তাঁকে দেখতে বাড়িতে গেলে কথিত ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর ভাইয়েরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিব হাসানকে সেখান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী কাওছার আলম।

অভিযোগের বিষয়ে আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার। তাঁর বোন এবং নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান তিনি।

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে মায়ের অস্থি সংগ্রহ করতে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

error:

এমপির গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, সৎভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

উপজেলা প্রতিনিধি, দিরাই (সুনামগঞ্জ):

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ঠেকিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভীন চৌধুরী বাদী হয়ে তাঁর তিন সৎভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মমতাজ বেগমকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে পারভীন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআর অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে পাঠানো হয়। তখন অসুস্থ ও অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দিয়ে একটি দলিলে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হলে তিনি এতে রাজি হননি।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, পরে তাঁর গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় কথাবার্তা শুনে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেন। তখন আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাঁকেও হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শেলী চৌধুরী মেঝেতে পড়ে যান।

মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক ওয়াকিব হাসান ওই সময় তাঁকে দেখতে বাড়িতে গেলে কথিত ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর ভাইয়েরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিব হাসানকে সেখান থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী কাওছার আলম।

অভিযোগের বিষয়ে আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাবরেজিস্ট্রার। তাঁর বোন এবং নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি জানার পর আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান তিনি।

মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।