ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

চুনারুঘাটে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ মামলা করেও বিচার পাচ্ছেন না ধর্ষিতার পরিবার

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক ভিক্ষুকের মেয়ে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ছিদ্দিক আলীর ছেলে শামীম মিয়া (২৫)কে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, হবিগঞ্জে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

তবে মামলা দায়েরের পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার হবিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিচার দাবি করেন।

মামলার বাদী উপজেলার চুরতা গ্রামের ভিক্ষুক আব্দুল হেকিমের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে। অভিযুক্ত শামীম মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হেকিম ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভাবের সংসারের কারণে তিনি তাঁর কিশোরী মেয়েকে একই গ্রামের ছিদ্দিক আলীর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠান। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় গৃহকর্তার ছেলে শামীম কিশোরীর প্রতি কুপ্রস্তাব ও কুদৃষ্টি দিতে শুরু করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির একটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় গৃহকর্তার ছেলে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে তখন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি জোর করে ওষুধ খাইয়ে তাঁর গর্ভপাত ঘটান। পরে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণ খোয়াই নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতজনিত জটিলতার উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ওই পরিবার ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, হবিগঞ্জে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তের জন্য পাঠান। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মৃলান দেবনাথ বলেন, “খুব শিগগিরই বিজ্ঞ আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। যা সত্য, তাই দেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

চুনারুঘাটে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ মামলা করেও বিচার পাচ্ছেন না ধর্ষিতার পরিবার

আপডেট সময় ০৭:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক ভিক্ষুকের মেয়ে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ছিদ্দিক আলীর ছেলে শামীম মিয়া (২৫)কে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, হবিগঞ্জে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

তবে মামলা দায়েরের পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার হবিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিচার দাবি করেন।

মামলার বাদী উপজেলার চুরতা গ্রামের ভিক্ষুক আব্দুল হেকিমের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে। অভিযুক্ত শামীম মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হেকিম ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভাবের সংসারের কারণে তিনি তাঁর কিশোরী মেয়েকে একই গ্রামের ছিদ্দিক আলীর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে পাঠান। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় গৃহকর্তার ছেলে শামীম কিশোরীর প্রতি কুপ্রস্তাব ও কুদৃষ্টি দিতে শুরু করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল দুপুরে বাড়ির একটি কক্ষ পরিষ্কার করার সময় গৃহকর্তার ছেলে জোরপূর্বক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে তখন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেননি বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তি জোর করে ওষুধ খাইয়ে তাঁর গর্ভপাত ঘটান। পরে গর্ভপাত হওয়া ভ্রূণ খোয়াই নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলায় দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতজনিত জটিলতার উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ওই পরিবার ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, হবিগঞ্জে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি হবিগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তের জন্য পাঠান। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে শামীম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মৃলান দেবনাথ বলেন, “খুব শিগগিরই বিজ্ঞ আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। যা সত্য, তাই দেওয়া হবে।”