ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ Logo পিকআপে ৫৫ কেজি গাঁজা, মাধবপুরে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৪ Logo হবিগঞ্জের রঘুনন্দন বনাঞ্চল এলাকায় রাতের আধারে অবাধে বালু উওোলন ও গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ বনদস্যুরা Logo আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বদলে গেছে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজ Logo জনগণের পাশে থেকে সেবার প্রত্যয়, ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে দোয়া-সহযোগিতা চাইলেন বিএম ফরিদ আহমেদ Logo মন্ত্রীর সঙ্গে এমপি সৈয়দ মো. ফয়সলের একান্ত সাক্ষাৎ, মাধবপুর-চুনারুঘাটের সড়ক-সেতু উন্নয়নের দাবি Logo পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo শুরুটা যেভাবে, আজ সাংবাদিকতায় মেহেরাব Logo হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, নোংরা পরিবেশ দেখে ক্ষোভ Logo মতপ্রকাশে ভয়, অনলাইনে নিজেদের ‘গুটিয়ে নিচ্ছেন’ সাংবাদিকরা

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর বিলীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ার পানিতে বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে যোগাযোগ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সেই পথও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

পল্লীবাসীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়ক সংস্কার বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের গতি এতটাই বেড়েছে যে ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো পল্লী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ

error:

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর বিলীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ার পানিতে বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে যোগাযোগ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সেই পথও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

পল্লীবাসীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়ক সংস্কার বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের গতি এতটাই বেড়েছে যে ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো পল্লী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।