ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর কাটিয়ারা মাছ বাজারে খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo লাখাইয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ায় হুইপ জি কে গউছকে ছাত্রদল নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা Logo সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা Logo দুই মাসের শিশুর পা ভাঙার চেষ্টা, গোপন ক্যামেরায় ধরা চাচির নির্যাতন Logo মাধবপুরে বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় রাবার বাগানের কর্মকর্তাদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগ Logo এমসি কলেজে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস Logo মাধবপুরে কাজিরচক-এতিমপুর সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর! Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১০৫ বোতল বিদেশি মদ ও মিনি পিকআপ জব্দ, আটক ১ Logo যানজট নিরসনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার অভিযান, নম্বর প্লেটবিহীন ১৪০ অবৈধ টমটম আটক

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর বিলীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ার পানিতে বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে যোগাযোগ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সেই পথও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

পল্লীবাসীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়ক সংস্কার বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের গতি এতটাই বেড়েছে যে ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো পল্লী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর কাটিয়ারা মাছ বাজারে খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পাহাড়ি ঢলে বিলীনের পথে সাতছড়ির ত্রিপুরা পল্লী, ঝুঁকিতে ২৪ পরিবার

আপডেট সময় ০৯:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন ত্রিপুরা পল্লী মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর বিলীন হয়েছে। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই পুরো পল্লী বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাতছড়ার পাহাড়ি ছড়াগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র সড়কটি ভেঙে গেছে। গাইডওয়াল না থাকায় টিলা ধসে কয়েকটি বসতঘর ছড়ার পানিতে বিলীন হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে যোগাযোগ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে ছড়া পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় সেই পথও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

পল্লীবাসীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও ভাঙনে তাদের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা আশিষ দেববর্মা বলেন, গত বছর তিনটি ঘর বিলীন হয়েছিল। এবার পুরো গ্রামই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত দেববর্মা জানান, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও সড়ক সংস্কার বা ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, চলতি বর্ষায় ভাঙনের গতি এতটাই বেড়েছে যে ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো পল্লী বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাতছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা গেলে আপাতত ত্রিপুরা পল্লীকে টিলা ধসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, এবারের ভূমিধসে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।