
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সম্ভাব্য অবৈধ পুশইন, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসন, বিজিবি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান।
সাংবাদিক হামিদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা, ধর্মঘর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, রাজেন্দ্রপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আক্তারুজ্জামান, অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, সমাজসেবক ফরিদুর রহমান, ছায়েদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহজনক যেকোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত প্রশাসন ও বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মঘর বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম জানান, সীমান্তের ভারতীয় অংশে বিএসএফের নজরদারির মধ্যে প্রায় ৩০০ নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সুযোগ পেলেই তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য যেকোনো পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান। তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং সীমান্ত এলাকার জনগণকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।
সভা শেষে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সচেতনতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বিজিবি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























