
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মমিনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে উত্তোলিত সিলিকা বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সুতাং নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা সিলিকা বালু মজুদ করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বালু বিক্রির প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, পুরাসুন্দা এবং চুনারুঘাট উপজেলার জোয়ার লালচাঁন এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে নৌকাযোগে সিলিকা বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। পরে এসব বালু হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের চানপুর খেলার মাঠে এনে মজুদ করা হয়। সেখান থেকে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বালু বিক্রির জন্য ‘জম জম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ খোলা হয়েছে। ওই পেইজ থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে যোগাযোগের জন্য মমিনুল ইসলাম মমিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকেও ওই বিজ্ঞাপন শেয়ার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সুতাং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এ বিষয়ে মমিনুল ইসলাম মমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘জম জম এন্টারপ্রাইজ’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি নন এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ফেসবুক পেইজে তার মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি এবং তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিজ্ঞাপন শেয়ার দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পরই বালু বিক্রিসংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আবু জাহের বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























