
সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে একটি তক্ষক অবমুক্ত করেছে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) হবিগঞ্জের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রাম থেকে একটি তক্ষক উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত প্রাণীটিকে একদিন পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণে রাখার পর শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্ত করার পর মুহূর্তের মধ্যেই তক্ষকটি গভীর বনে চলে যায়।
তক্ষক অবমুক্তকালে সাতছড়ি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, সাংবাদিক এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জ বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, তক্ষকের ইংরেজি নাম Gecko এবং বৈজ্ঞানিক নাম Gekko gecko। এটি গেকোনিডি গোত্রের একটি বড় আকারের গিরগিটি প্রজাতি। এদের দেহ সাধারণত ধূসর বা নীলচে বর্ণের হয় এবং শরীরে লাল ও সাদাটে ফোঁটা দেখা যায়। পিঠের সাদাটে ফোঁটাগুলো সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, তক্ষক মূলত কীটপতঙ্গ, ছোট টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে থাকে এবং বাড়ির ছাদ, ফাঁকফোকর কিংবা গাছের গর্তে বাস করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় তক্ষক একটি বিপর্যস্ত প্রজাতি। অবৈধ শিকার ও ভুল ধারণার কারণে এদের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। অনেকেই ভুলবশত তক্ষককে বিষাক্ত মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বিষাক্ত নয়।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তক্ষকের বিস্তৃতি থাকলেও অবৈধ বাণিজ্য এবং লোকজ চিকিৎসার নামে নির্বিচারে নিধনের কারণে প্রাণীটি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 























