ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

জনমানুষের রাজনীতিতে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ছিলেন দেশের রাজনীতির এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, সংসদের হুইপ ও কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজ এলাকায় একটি স্বতন্ত্র নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন। মাধবপুর-চুনারুঘাট অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি আজও একটি পরিচিত নাম।

১৯৪০ সালের ১৯ জুন জন্মগ্রহণকারী কায়সার তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। জনসেবার আদর্শকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি দ্রুতই পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে মাধবপুর-চুনারুঘাট অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালেও জনগণের সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তিনি এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা বিস্তার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা স্মরণ করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। দায়িত্ব পালনকালে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও জনসংযোগে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক নেতা। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা এখনও অনেকেই স্মরণ করেন। রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও পরামর্শদাতা। তাঁর বাসভবন ছিল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে নানা সমস্যার সমাধান ও পরামর্শের জন্য মানুষ যেতেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী ছিলেন। তাঁর কর্মজীবন, নেতৃত্ব এবং জনসম্পৃক্ততা তাঁকে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অনেক প্রবীণ বাসিন্দা এখনও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন স্মৃতি স্মরণ করেন।

২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আজও অনেকের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর সহোদর এবং হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বার্তা প্রেরক: মোঃ আইয়ুব খান

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

জনমানুষের রাজনীতিতে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার

আপডেট সময় ১২:২২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের সন্তান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার ছিলেন দেশের রাজনীতির এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, সংসদের হুইপ ও কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজ এলাকায় একটি স্বতন্ত্র নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন। মাধবপুর-চুনারুঘাট অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি আজও একটি পরিচিত নাম।

১৯৪০ সালের ১৯ জুন জন্মগ্রহণকারী কায়সার তরুণ বয়স থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। জনসেবার আদর্শকে সামনে রেখে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি দ্রুতই পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে মাধবপুর-চুনারুঘাট অঞ্চলের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালেও জনগণের সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তিনি এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা বিস্তার এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা স্মরণ করেন।

১৯৮৮ সালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। দায়িত্ব পালনকালে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও জনসংযোগে বিশ্বাসী একজন রাজনৈতিক নেতা। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা এখনও অনেকেই স্মরণ করেন। রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও পরামর্শদাতা। তাঁর বাসভবন ছিল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত, যেখানে নানা সমস্যার সমাধান ও পরামর্শের জন্য মানুষ যেতেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী ছিলেন। তাঁর কর্মজীবন, নেতৃত্ব এবং জনসম্পৃক্ততা তাঁকে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশেষ করে মাধবপুর ও চুনারুঘাটের অনেক প্রবীণ বাসিন্দা এখনও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন স্মৃতি স্মরণ করেন।

২০২২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক আজও অনেকের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁর সহোদর এবং হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়া তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বার্তা প্রেরক: মোঃ আইয়ুব খান