ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত; আটক ৪

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিনে কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের কারী কালা মিয়ার ছেলে আহম্মদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে একই গ্রামের মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খড়কি গ্রামে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দ্র ও তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ আরও প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় খড়কি গ্রামের ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত; আটক ৪

আপডেট সময় ১০:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামে শালিস বিচারে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই দিনে কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মাধবপুর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের খড়কি গ্রামের কারী কালা মিয়ার ছেলে আহম্মদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে একই গ্রামের মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খড়কি গ্রামে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়।

তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন তদন্ত কেন্দ্র ও তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ আরও প্রায় ৬০ জন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় খড়কি গ্রামের ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”