
পারভেজ হাসান লাখাই প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও শিক্ষকদের চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কর্মস্থল লাখাইয়ে হলেও অধিকাংশ শিক্ষক সপরিবারে বসবাস করছেন হবিগঞ্জ জেলা শহরে। ফলে প্রতিদিন সকাল ৯টায় স্কুল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক শিক্ষক ১০টা, সাড়ে ১০টা, এমনকি ১১টায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজার এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের পর বিভিন্ন বাস থেকে নামতে দেখা যায়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হবিগঞ্জ থেকে আসা একটি লোকাল বাস থেকে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে নামতে দেখা যায়। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পাঠদান চলার কথা থাকলেও তাদের বাজারে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকটি বাস থেকে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে নামতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বুল্লা বাজার থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছাতে আরও সময় লাগে। ফলে অনেক শিক্ষক দুপুরের আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেন না।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকরা প্রতিদিন দেরিতে স্কুলে আসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাস শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা দীর্ঘসময় শিক্ষকহীন অবস্থায় বসে থাকে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি মন্তব্য করে জানান, এটি একদিনের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে লাখাই উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি চলছে।
এ বিষয়ে এক প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের খেলাধুলা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে তার বিদ্যালয়ে যেতে দেরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি অন্যত্র যাওয়ার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
লাখাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের অফিসে যেখানে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে মাত্র ৩ জন কর্মরত আছেন। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “লাখাই উপজেলার অনেক শিক্ষক দেরিতে বিদ্যালয়ে আসতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। চেষ্টা করেও তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত এ অনিয়ম বন্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















