ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত Logo মাধবপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভা উপজেলা বিএনপি সভাপতির মামলা প্রত্যাহারের দাবি Logo মাধবপুরে র‍্যাবের অভিযানে ৩৮০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে মারামারি, ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার। Logo রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: মোহাম্মদপুর, লালবাগ ও বংশালে গ্রেপ্তার ৪৫ Logo সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব Logo সেপ্টেম্বরেই বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া Logo ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস, দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি Logo হিলি স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা Logo হাইমচরে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের আহ্বান এমপি মানিকের

লাখাইয়ে ৪৪ ঘণ্টার দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: ধানক্ষেতে হাহাকার, পচছে কষ্টের ফসল

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো চাষিদের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ২৮ এপ্রিল ভোর থেকে ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত প্রায় ৪৪ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

একদিকে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে কেটে রাখা ধান মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে করে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কেটেছিলেন। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকা এবং পর্যাপ্ত রোদের অভাবে কেটে রাখা ধানে পচন ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।

৩০ এপ্রিল সকালে সূর্য ওঠলেও কৃষকদের মুখে নেই কোনো স্বস্তির ছাপ। মাঠে গিয়ে তারা দেখছেন তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাওর এলাকা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করলেও প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররোষে সেই ফসল এখন মাঠেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। আশা ছিল ধান ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু এখন ধান গোলায় তোলার বদলে মাঠেই পচতে দেখছেন। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান না করলে আগামীতে চাষিরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।

উপজেলার কৃষক সমাজ এখন সরকারের বিশেষ সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

error:

লাখাইয়ে ৪৪ ঘণ্টার দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: ধানক্ষেতে হাহাকার, পচছে কষ্টের ফসল

আপডেট সময় ০১:২৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো চাষিদের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ২৮ এপ্রিল ভোর থেকে ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত প্রায় ৪৪ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

একদিকে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে কেটে রাখা ধান মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে করে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কেটেছিলেন। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকা এবং পর্যাপ্ত রোদের অভাবে কেটে রাখা ধানে পচন ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।

৩০ এপ্রিল সকালে সূর্য ওঠলেও কৃষকদের মুখে নেই কোনো স্বস্তির ছাপ। মাঠে গিয়ে তারা দেখছেন তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাওর এলাকা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করলেও প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররোষে সেই ফসল এখন মাঠেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। আশা ছিল ধান ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু এখন ধান গোলায় তোলার বদলে মাঠেই পচতে দেখছেন। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান না করলে আগামীতে চাষিরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।

উপজেলার কৃষক সমাজ এখন সরকারের বিশেষ সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।