ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন: যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড Logo মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার, মাদকসেবনের অভিযোগে যুবক আটক Logo মাধবপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা Logo বাহুবলে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনওর অভিযান: ইয়াবা বহন ও সেবনে নারীর ৯ মাস কারাদণ্ড Logo জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: কমিটি বাতিল, অধ্যক্ষকে শোকজ Logo বাহুবলে নারী-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৬ Logo লাখাইয়ে মুড়িয়াউক গ্রামের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট মামলার প্রধান আসামি আক্তার মিয়া গ্রেফতার Logo বর্ষার শুরুতেই লাখাইয়ের শিবপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম: একমাত্র ভরসা নৌকা Logo জামালপুরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে ১০০ শিক্ষার্থী Logo মাধবপুরে এলপিজির দাম কমলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা

লাখাইয়ে ৪৪ ঘণ্টার দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: ধানক্ষেতে হাহাকার, পচছে কষ্টের ফসল

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো চাষিদের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ২৮ এপ্রিল ভোর থেকে ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত প্রায় ৪৪ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

একদিকে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে কেটে রাখা ধান মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে করে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কেটেছিলেন। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকা এবং পর্যাপ্ত রোদের অভাবে কেটে রাখা ধানে পচন ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।

৩০ এপ্রিল সকালে সূর্য ওঠলেও কৃষকদের মুখে নেই কোনো স্বস্তির ছাপ। মাঠে গিয়ে তারা দেখছেন তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাওর এলাকা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করলেও প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররোষে সেই ফসল এখন মাঠেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। আশা ছিল ধান ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু এখন ধান গোলায় তোলার বদলে মাঠেই পচতে দেখছেন। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান না করলে আগামীতে চাষিরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।

উপজেলার কৃষক সমাজ এখন সরকারের বিশেষ সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন: যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

লাখাইয়ে ৪৪ ঘণ্টার দুর্যোগে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: ধানক্ষেতে হাহাকার, পচছে কষ্টের ফসল

আপডেট সময় ০১:২৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো চাষিদের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত ২৮ এপ্রিল ভোর থেকে ২৯ এপ্রিল রাত পর্যন্ত প্রায় ৪৪ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার কৃষি খাত লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে।

একদিকে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, অন্যদিকে কেটে রাখা ধান মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে করে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমির ধান পানির নিচে ডুবে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই কৃষকরা, যারা বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কেটেছিলেন। দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজে থাকা এবং পর্যাপ্ত রোদের অভাবে কেটে রাখা ধানে পচন ধরেছে। অনেক ক্ষেত্রে ধান থেকে চারা গজাতে শুরু করেছে।

৩০ এপ্রিল সকালে সূর্য ওঠলেও কৃষকদের মুখে নেই কোনো স্বস্তির ছাপ। মাঠে গিয়ে তারা দেখছেন তাদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো হাওর এলাকা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে বোরো আবাদ করলেও প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররোষে সেই ফসল এখন মাঠেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষক জানান, হাজার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। আশা ছিল ধান ঘরে তুলে ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু এখন ধান গোলায় তোলার বদলে মাঠেই পচতে দেখছেন। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান না করলে আগামীতে চাষিরা আরও বড় সংকটে পড়বেন।

উপজেলার কৃষক সমাজ এখন সরকারের বিশেষ সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।