ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ Logo পিকআপে ৫৫ কেজি গাঁজা, মাধবপুরে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৪ Logo হবিগঞ্জের রঘুনন্দন বনাঞ্চল এলাকায় রাতের আধারে অবাধে বালু উওোলন ও গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ বনদস্যুরা Logo আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বদলে গেছে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজ Logo জনগণের পাশে থেকে সেবার প্রত্যয়, ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে দোয়া-সহযোগিতা চাইলেন বিএম ফরিদ আহমেদ Logo মন্ত্রীর সঙ্গে এমপি সৈয়দ মো. ফয়সলের একান্ত সাক্ষাৎ, মাধবপুর-চুনারুঘাটের সড়ক-সেতু উন্নয়নের দাবি Logo পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo শুরুটা যেভাবে, আজ সাংবাদিকতায় মেহেরাব Logo হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, নোংরা পরিবেশ দেখে ক্ষোভ Logo মতপ্রকাশে ভয়, অনলাইনে নিজেদের ‘গুটিয়ে নিচ্ছেন’ সাংবাদিকরা

লাখাইয়ে দুর্যোগের তান্ডব: অন্ধকারে ডুবছে শিক্ষা, কুপি বাতিই ভরসা; পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন আর খামারির হাহাকার

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও প্রবল ঝড়-তুফানে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই দুর্যোগে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

টানা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো উপজেলা অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রাতের অন্ধকারে মানুষ এখন মোমবাতি, কুপি বাতি ও হারিকেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কেরোসিন ও মোমবাতির চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত আলো ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

অন্যদিকে, পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারিরা পড়েছেন চরম সংকটে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএস অচল হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে খামারিরা কুপি বা বড় ল্যাম্প জ্বালিয়ে গবাদি পশু ও মুরগি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এতে পর্যাপ্ত আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই চোখের সামনে তাদের সোনালি ফসল নষ্ট হতে দেখে আহাজারি করছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ

error:

লাখাইয়ে দুর্যোগের তান্ডব: অন্ধকারে ডুবছে শিক্ষা, কুপি বাতিই ভরসা; পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন আর খামারির হাহাকার

আপডেট সময় ০৪:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও প্রবল ঝড়-তুফানে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই দুর্যোগে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

টানা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় পুরো উপজেলা অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রাতের অন্ধকারে মানুষ এখন মোমবাতি, কুপি বাতি ও হারিকেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কেরোসিন ও মোমবাতির চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত আলো ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

অন্যদিকে, পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারিরা পড়েছেন চরম সংকটে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএস অচল হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে খামারিরা কুপি বা বড় ল্যাম্প জ্বালিয়ে গবাদি পশু ও মুরগি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এতে পর্যাপ্ত আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই চোখের সামনে তাদের সোনালি ফসল নষ্ট হতে দেখে আহাজারি করছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।