ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান Logo কবর থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ আদালতের Logo পুলিশ হত্যা করেছি বলে আলোচিত মাহাদী হাসান এবার আশ্রয় নিলেন থানায় Logo মাধবপুরে ড্রাম ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২ Logo লাখাইয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবককে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে পাওনা টাকা চাওয়ায় গৃহবধূর ওপর হামলা ও লাখ টাকা লুটের অভিযোগ Logo ধর্মঘর ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র‌্যালি ও বার্ষিক ক্যাম্পেইন Logo মাধবপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং ধর্মঘর বাজার আউটলেট উদ্বোধন Logo সিলেট-৫ ও ঢাকা-১১ আসনের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার Logo এমপির নির্দেশে সচল হচ্ছে জগদীশপুর-ছাতিয়াইন সড়ক

গাছকে সন্তানের মতো আগলে রাখেন শিক্ষক মোস্তাক

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে বৃক্ষরোপণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোস্তাক আহাম্মদ। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস হবিগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে তিনি কয়েক বছর ধরে নিরলসভাবে বৃক্ষরোপণ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ জানান, তিনি বিভিন্ন রাস্তার পাশে, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, শ্মশান ও পতিত জমিতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফলজ গাছের চারা রোপণ করেছেন। তার লাগানো গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, বেল, জলপাই, কদবেল, পেয়ারা ও লটকনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষ।

জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে লাগানো গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফল ধরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা গাছে ফল আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথমদিকে জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজ তার ভালোবাসা ও নেশায় পরিণত হয়।

শুধু গাছ লাগানোতেই তিনি থেমে থাকেননি। রোপণ করা প্রতিটি গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়া, নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং গাছগুলো বড় করে তোলার জন্য নিজেই সময় ও শ্রম দিচ্ছেন।

তার উদ্যোগে জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে বড়ধলিয়া, ইটাখোলা রেলস্টেশন ও পূর্ব চারাভাঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এছাড়া সন্তোষপুর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও মসজিদ, জগদীশপুর-সন্তোষপুর-চারাভাঙ্গা সম্মিলিত কবরস্থান, জগদীশপুর-মির্জাপুর সড়ক এবং বেলঘরের প্রধান সড়কগুলোতেও গাছ লাগানো হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার পাশে এবং রেললাইনের ধারে কয়েক হাজার তালবীজও রোপণ করেছেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে আনা খেজুরের বীজ বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের গাছের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অনুকরণীয়। তিনি শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; বরং সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে গাছগুলো বড় করে তুলছেন।

জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়েও নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন, যা তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগায়, তাহলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর পৌরসভাকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করতে চান মেয়র পদপ্রার্থী হাজী সোলেমান

গাছকে সন্তানের মতো আগলে রাখেন শিক্ষক মোস্তাক

আপডেট সময় ০৪:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে বৃক্ষরোপণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) মোস্তাক আহাম্মদ। তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস হবিগঞ্জ জেলার সহকারী কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে তিনি কয়েক বছর ধরে নিরলসভাবে বৃক্ষরোপণ করে যাচ্ছেন।

শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদ জানান, তিনি বিভিন্ন রাস্তার পাশে, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, শ্মশান ও পতিত জমিতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফলজ গাছের চারা রোপণ করেছেন। তার লাগানো গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল, আম, জাম, লিচু, বেল, জলপাই, কদবেল, পেয়ারা ও লটকনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষ।

জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে লাগানো গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফল ধরতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা গাছে ফল আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথমদিকে জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজ তার ভালোবাসা ও নেশায় পরিণত হয়।

শুধু গাছ লাগানোতেই তিনি থেমে থাকেননি। রোপণ করা প্রতিটি গাছের চারপাশে বেড়া দেওয়া, নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং গাছগুলো বড় করে তোলার জন্য নিজেই সময় ও শ্রম দিচ্ছেন।

তার উদ্যোগে জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে বড়ধলিয়া, ইটাখোলা রেলস্টেশন ও পূর্ব চারাভাঙ্গা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এছাড়া সন্তোষপুর এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও মসজিদ, জগদীশপুর-সন্তোষপুর-চারাভাঙ্গা সম্মিলিত কবরস্থান, জগদীশপুর-মির্জাপুর সড়ক এবং বেলঘরের প্রধান সড়কগুলোতেও গাছ লাগানো হয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার পাশে এবং রেললাইনের ধারে কয়েক হাজার তালবীজও রোপণ করেছেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে আনা খেজুরের বীজ বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের গাছের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই অনুকরণীয়। তিনি শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; বরং সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে গাছগুলো বড় করে তুলছেন।

জগদীশপুর জে.সি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, শিক্ষক মোস্তাক আহাম্মদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়েও নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন, যা তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলছে।

তিনি আরও বলেন, সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগায়, তাহলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।