
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাকলাপুঞ্জি চা বাগান এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুনারুঘাট উপজেলা-এর এই চা বাগানে শতাধিক চা শ্রমিক পরিবার এখন গভীর নলকূপের মাধ্যমে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শ্রমিকদের জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
জানা যায়, উঁচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় চাকলাপুঞ্জি চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট ছিল। স্থায়ী নলকূপ বা বিশুদ্ধ পানির কোনো উৎস না থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলোকে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। অনেক সময় অপরিষ্কার ও জীবাণুযুক্ত পানি পান করায় নারী ও শিশুসহ শ্রমিকরা পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতেন, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জাতীয় নির্বাচনের সময় সৈয়দ শাফকাত আহমেদ সরেজমিনে বাগানটি পরিদর্শন করে শ্রমিকদের দুর্দশার বিষয়টি অবহিত করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল-কে। পরবর্তীতে তাঁর নির্দেশনায় সেখানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
চা শ্রমিক হৈমন্তি সাঁওতাল বলেন, আগে অনেক দূর থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হতো। সেই পানি পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটত। এখন গভীর নলকূপ হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে, এতে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে।
এ বিষয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের শ্রমিকদের পানির কষ্ট আমি নিজ চোখে দেখেছি। বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমার বাবার নির্দেশনায় দ্রুত এখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনসহ মৌলিক সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাব।
সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। মাধবপুর ও চুনারুঘাটের ২৩টি চা বাগানে নানা সমস্যা রয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের পানির সংকট সমাধান করা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাগানেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এই সুপেয় পানির উদ্যোগ শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















