ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাস্তার পাশে পড়ে ছিল নবজাতক কন্যাশিশু, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি Logo মাধবপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন: যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড Logo মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার, মাদকসেবনের অভিযোগে যুবক আটক Logo মাধবপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা Logo বাহুবলে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনওর অভিযান: ইয়াবা বহন ও সেবনে নারীর ৯ মাস কারাদণ্ড Logo জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: কমিটি বাতিল, অধ্যক্ষকে শোকজ Logo বাহুবলে নারী-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৬ Logo লাখাইয়ে মুড়িয়াউক গ্রামের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট মামলার প্রধান আসামি আক্তার মিয়া গ্রেফতার Logo বর্ষার শুরুতেই লাখাইয়ের শিবপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম: একমাত্র ভরসা নৌকা Logo জামালপুরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে ১০০ শিক্ষার্থী

শুকিয়ে কাঠ সুতাং: তলদেশে চলছে ধান চাষ, শঙ্কায় লাখাইয়ের কৃষি

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুতাং নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ ধারণ করেছে। যে নদীতে একসময় ঢেউ খেলত, সেই নদীর তলদেশে এখন কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করছেন। পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার বোরো ধান চাষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুতাং নদীর পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ তলানিতে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও নদীটি এতটাই শুকিয়ে গেছে যে নদীর বুকেই গড়ে উঠেছে ধানক্ষেত। একসময় দুই পাড় ছাপিয়ে বয়ে চলা জলরাশি এখন স্মৃতি মাত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে সেখানে দেখা মিলছে সবুজ ফসলের, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ সংকেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা মূলত বোরো ধান চাষনির্ভর। আর এই বোরো চাষের সেচের প্রধান উৎস ছিল সুতাং নদী। কিন্তু নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচ পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ধানক্ষেতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো সেচ না পেলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব। নদীই যদি মরে যায়, তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

নদীর এই করুণ অবস্থার মধ্যেও কিছুটা আশার কথা শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুতাং নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে খনন কাজ পুরো নদীজুড়ে হবে, নাকি আংশিক—এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আংশিক বা লোকদেখানো খননে নদীর প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।

লাখাইয়ের সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে সুতাং নদীকে তার স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীটির সম্পূর্ণ খনন নিশ্চিত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

রাস্তার পাশে পড়ে ছিল নবজাতক কন্যাশিশু, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি

শুকিয়ে কাঠ সুতাং: তলদেশে চলছে ধান চাষ, শঙ্কায় লাখাইয়ের কৃষি

আপডেট সময় ০৯:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুতাং নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ ধারণ করেছে। যে নদীতে একসময় ঢেউ খেলত, সেই নদীর তলদেশে এখন কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করছেন। পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার বোরো ধান চাষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুতাং নদীর পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ তলানিতে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও নদীটি এতটাই শুকিয়ে গেছে যে নদীর বুকেই গড়ে উঠেছে ধানক্ষেত। একসময় দুই পাড় ছাপিয়ে বয়ে চলা জলরাশি এখন স্মৃতি মাত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে সেখানে দেখা মিলছে সবুজ ফসলের, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ সংকেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

লাখাই উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা মূলত বোরো ধান চাষনির্ভর। আর এই বোরো চাষের সেচের প্রধান উৎস ছিল সুতাং নদী। কিন্তু নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচ পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ধানক্ষেতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো সেচ না পেলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব। নদীই যদি মরে যায়, তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”

নদীর এই করুণ অবস্থার মধ্যেও কিছুটা আশার কথা শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুতাং নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে খনন কাজ পুরো নদীজুড়ে হবে, নাকি আংশিক—এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আংশিক বা লোকদেখানো খননে নদীর প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।

লাখাইয়ের সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে সুতাং নদীকে তার স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীটির সম্পূর্ণ খনন নিশ্চিত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।