
পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুতাং নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটি শুকিয়ে মরুভূমির রূপ ধারণ করেছে। যে নদীতে একসময় ঢেউ খেলত, সেই নদীর তলদেশে এখন কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করছেন। পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার বোরো ধান চাষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুতাং নদীর পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ তলানিতে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও নদীটি এতটাই শুকিয়ে গেছে যে নদীর বুকেই গড়ে উঠেছে ধানক্ষেত। একসময় দুই পাড় ছাপিয়ে বয়ে চলা জলরাশি এখন স্মৃতি মাত্র। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে সেখানে দেখা মিলছে সবুজ ফসলের, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ সংকেত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
লাখাই উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা মূলত বোরো ধান চাষনির্ভর। আর এই বোরো চাষের সেচের প্রধান উৎস ছিল সুতাং নদী। কিন্তু নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচ পাম্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় ধানক্ষেতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো সেচ না পেলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “নদী বাঁচলে আমরা বাঁচব। নদীই যদি মরে যায়, তাহলে আমাদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
নদীর এই করুণ অবস্থার মধ্যেও কিছুটা আশার কথা শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুতাং নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে খনন কাজ পুরো নদীজুড়ে হবে, নাকি আংশিক—এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আংশিক বা লোকদেখানো খননে নদীর প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না।
লাখাইয়ের সাধারণ মানুষের দাবি, উপজেলার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে সুতাং নদীকে তার স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীটির সম্পূর্ণ খনন নিশ্চিত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























