
পারভেজ | লাখাই প্রতিনিধি:
একসময় যে নদী ছিল লাখাই উপজেলার মানুষের আশীর্বাদ, আজ সেই সুতাং নদীই যেন এক মরণফাঁদ। নদীর টলটলে স্বচ্ছ জলের বদলে এখন বইছে ঘন কালো কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি। হবিগঞ্জের অলিপুরে অবস্থিত একটি শিল্পকারখানার নিষিদ্ধ বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার ফলে সুতাং নদী এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘বোবা কান্নায়’ ভারী হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি এতটাই দূষিত যে কৃষকরা সেচের জন্য জমিতে পানি নিলে সেখানে সাবানের ফেনার মতো ঘন ফেনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। কেমিক্যালযুক্ত এই পানি জমিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে মাটির উর্বরতা। এতে করে লাখাই উপজেলার তীরবর্তী শত শত কৃষক আজ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
নদী তীরবর্তী এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আগে এই নদীর পানিতে গোসল করতাম, মাছ ধরতাম। এখন এই পানি জমিতে দিলে ধান লাল হয়ে মরে যায়। প্রতিবাদ করে কী হবে, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।
বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা এই ক্ষতি সহ্য করে আসছেন। একাধিকবার প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কাছে সাধারণ কৃষকের হাহাকার আজ উপেক্ষিত।
সুতাং নদীর এই দূষণ শুধু কৃষিতেই নয়, ধ্বংস করছে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। নদীর বিষাক্ত পানি থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কারখানার বর্জ্য শোধনাগার যথাযথভাবে ব্যবহার না করে সরাসরি বিষাক্ত পানি নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
লাখাই উপজেলার প্রাণ সুতাং নদীকে রক্ষা করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















