ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

লাখাইয়ের সুতাং নদী এখন বিষের ধারা: অলিপুর কোম্পানির বর্জ্যে বিপন্ন কৃষক ও কৃষি

পারভেজ | লাখাই প্রতিনিধি:

একসময় যে নদী ছিল লাখাই উপজেলার মানুষের আশীর্বাদ, আজ সেই সুতাং নদীই যেন এক মরণফাঁদ। নদীর টলটলে স্বচ্ছ জলের বদলে এখন বইছে ঘন কালো কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি। হবিগঞ্জের অলিপুরে অবস্থিত একটি শিল্পকারখানার নিষিদ্ধ বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার ফলে সুতাং নদী এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘বোবা কান্নায়’ ভারী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি এতটাই দূষিত যে কৃষকরা সেচের জন্য জমিতে পানি নিলে সেখানে সাবানের ফেনার মতো ঘন ফেনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। কেমিক্যালযুক্ত এই পানি জমিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে মাটির উর্বরতা। এতে করে লাখাই উপজেলার তীরবর্তী শত শত কৃষক আজ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

নদী তীরবর্তী এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আগে এই নদীর পানিতে গোসল করতাম, মাছ ধরতাম। এখন এই পানি জমিতে দিলে ধান লাল হয়ে মরে যায়। প্রতিবাদ করে কী হবে, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।

বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা এই ক্ষতি সহ্য করে আসছেন। একাধিকবার প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কাছে সাধারণ কৃষকের হাহাকার আজ উপেক্ষিত।

সুতাং নদীর এই দূষণ শুধু কৃষিতেই নয়, ধ্বংস করছে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। নদীর বিষাক্ত পানি থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কারখানার বর্জ্য শোধনাগার যথাযথভাবে ব্যবহার না করে সরাসরি বিষাক্ত পানি নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

লাখাই উপজেলার প্রাণ সুতাং নদীকে রক্ষা করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

লাখাইয়ের সুতাং নদী এখন বিষের ধারা: অলিপুর কোম্পানির বর্জ্যে বিপন্ন কৃষক ও কৃষি

আপডেট সময় ১০:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পারভেজ | লাখাই প্রতিনিধি:

একসময় যে নদী ছিল লাখাই উপজেলার মানুষের আশীর্বাদ, আজ সেই সুতাং নদীই যেন এক মরণফাঁদ। নদীর টলটলে স্বচ্ছ জলের বদলে এখন বইছে ঘন কালো কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি। হবিগঞ্জের অলিপুরে অবস্থিত একটি শিল্পকারখানার নিষিদ্ধ বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার ফলে সুতাং নদী এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘বোবা কান্নায়’ ভারী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি এতটাই দূষিত যে কৃষকরা সেচের জন্য জমিতে পানি নিলে সেখানে সাবানের ফেনার মতো ঘন ফেনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। কেমিক্যালযুক্ত এই পানি জমিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে মাটির উর্বরতা। এতে করে লাখাই উপজেলার তীরবর্তী শত শত কৃষক আজ চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

নদী তীরবর্তী এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আগে এই নদীর পানিতে গোসল করতাম, মাছ ধরতাম। এখন এই পানি জমিতে দিলে ধান লাল হয়ে মরে যায়। প্রতিবাদ করে কী হবে, আমাদের কথা শোনার কেউ নেই।

বছরের পর বছর ধরে কৃষকরা এই ক্ষতি সহ্য করে আসছেন। একাধিকবার প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রভাবশালী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কাছে সাধারণ কৃষকের হাহাকার আজ উপেক্ষিত।

সুতাং নদীর এই দূষণ শুধু কৃষিতেই নয়, ধ্বংস করছে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য। নদীর বিষাক্ত পানি থেকে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কারখানার বর্জ্য শোধনাগার যথাযথভাবে ব্যবহার না করে সরাসরি বিষাক্ত পানি নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

লাখাই উপজেলার প্রাণ সুতাং নদীকে রক্ষা করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।