ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ
হবিগঞ্জ–৪ আসনে বদলাচ্ছে ভোটের সমীকরণ

শান্তি–নিরাপত্তার দাবিতে চা শ্রমিকদের পছন্দ সৈয়দ ফয়সল

মাধবপুর–চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের রাজনৈতিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। উপজেলার ২৩টি চা বাগানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের পক্ষে বাড়ছে জনসমর্থন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব চা বাগান এলাকায় এবার ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর–চুনারুঘাটের ২৩টি চা বাগানে মোট ভোটার প্রায় ৭৫ হাজার, যা এই আসনের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অতীতে এসব ভোটারের বড় অংশ নৌকা প্রতীকের সমর্থক থাকলেও এবার নৌকা প্রতীক না থাকায় স্থানীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তারা সৈয়দ মোঃ ফয়সলের দিকে ঝুঁকছেন।

সোমবার দিনভর বিভিন্ন চা বাগানে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিকদের প্রধান দাবি শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও মৌলিক উন্নয়ন। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন, “চা বাগানের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সব দিক বিবেচনায় সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে আমরা যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনে করছি। তার বিরুদ্ধে অন্যায় বা হয়রানির কোনো অভিযোগ নেই।”

চন্ডি চা বাগানের শ্রমিক শ্যামল সাঁওতাল বলেন, “নির্বাচনের পরেও আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ব্যবসা করতে চাই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবেন—এমন প্রার্থীকেই আমরা সমর্থন দিচ্ছি।”

মাধবপুর–চুনারুঘাট উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, যাদের ভোট নির্বাচনী সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। বেজুরা এলাকার অনুর কুমার নাগ বলেন, “যিনি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজে হয়রানি করবেন না—আমরা তাকেই ভোট দেব। সেই হিসেবে আমাদের পছন্দ সৈয়দ ফয়সল।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার দিনভর ধানের শীষের পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর–রতনপুর গ্রামে এক জনসভায় বক্তব্য দিয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আইনের শাসন এবং সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

সকালে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামে খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ মোঃ জুবায়ের কামাল ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ সময় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এ ছাড়া বুল্লা বাজারে সৈয়দ মোঃ শাহজাহান প্রচারণা ও মতবিনিময় করেন। চৌমুহনী বাজারে ধানের শীষের মিছিল শেষে বক্তব্য দেন সাবেক ওসি নূরুল ইসলাম। শাহপুর বাজারে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চা বাগান ভোটারদের অবস্থান বদল হলে হবিগঞ্জ–৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে মাধবপুর–চুনারুঘাটের চা বাগান এলাকাগুলো এখন নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

হবিগঞ্জ–৪ আসনে বদলাচ্ছে ভোটের সমীকরণ

শান্তি–নিরাপত্তার দাবিতে চা শ্রমিকদের পছন্দ সৈয়দ ফয়সল

আপডেট সময় ১০:২০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর–চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের রাজনৈতিক চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। উপজেলার ২৩টি চা বাগানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের পক্ষে বাড়ছে জনসমর্থন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এসব চা বাগান এলাকায় এবার ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর–চুনারুঘাটের ২৩টি চা বাগানে মোট ভোটার প্রায় ৭৫ হাজার, যা এই আসনের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অতীতে এসব ভোটারের বড় অংশ নৌকা প্রতীকের সমর্থক থাকলেও এবার নৌকা প্রতীক না থাকায় স্থানীয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তারা সৈয়দ মোঃ ফয়সলের দিকে ঝুঁকছেন।

সোমবার দিনভর বিভিন্ন চা বাগানে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিকদের প্রধান দাবি শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও মৌলিক উন্নয়ন। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা ও ইউপি সদস্য সাইমন মর্মু বলেন, “চা বাগানের মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। সব দিক বিবেচনায় সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে আমরা যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনে করছি। তার বিরুদ্ধে অন্যায় বা হয়রানির কোনো অভিযোগ নেই।”

চন্ডি চা বাগানের শ্রমিক শ্যামল সাঁওতাল বলেন, “নির্বাচনের পরেও আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ব্যবসা করতে চাই। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবেন—এমন প্রার্থীকেই আমরা সমর্থন দিচ্ছি।”

মাধবপুর–চুনারুঘাট উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, যাদের ভোট নির্বাচনী সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত। বেজুরা এলাকার অনুর কুমার নাগ বলেন, “যিনি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজে হয়রানি করবেন না—আমরা তাকেই ভোট দেব। সেই হিসেবে আমাদের পছন্দ সৈয়দ ফয়সল।”

নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার দিনভর ধানের শীষের পক্ষে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। সন্ধ্যায় শাহজাহানপুর–রতনপুর গ্রামে এক জনসভায় বক্তব্য দিয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আইনের শাসন এবং সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

সকালে ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামে খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ মোঃ জুবায়ের কামাল ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ সময় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এ ছাড়া বুল্লা বাজারে সৈয়দ মোঃ শাহজাহান প্রচারণা ও মতবিনিময় করেন। চৌমুহনী বাজারে ধানের শীষের মিছিল শেষে বক্তব্য দেন সাবেক ওসি নূরুল ইসলাম। শাহপুর বাজারে বক্তব্য রাখেন সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চা বাগান ভোটারদের অবস্থান বদল হলে হবিগঞ্জ–৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে মাধবপুর–চুনারুঘাটের চা বাগান এলাকাগুলো এখন নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।