ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

মাধবপুরের সীমনা ছড়ার বালু লুটে সাংবাদিক-প্রশাসনসহ টপ ইলাভেন সিন্ডিকেট গড়ার গুঞ্জন

মাধবপুর প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমনা ছড়ার মূল্যবান সিলিকা বালু লুট করতে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি ‘টপ ইলাভেন’ সিন্ডিকেট—এমন গুঞ্জনে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কতিপয় অসৎ কর্মচারীর নামে অংশ রেখে গোপনে গড়া এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সীমনা ছড়ার বালু কুবলে খাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে বড় বড় ট্রাক ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। শুধু সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বালু চোরেরা।

গত রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মজিবুর রহমান স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সীমনা ছড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু চোরেরা পালিয়ে যায় এবং বালু পরিবহনের ট্রাক্টরগুলো পার্শ্ববর্তী বাগানে লুকিয়ে রাখে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে অভিযান শেষ করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন শুরু হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এলাকা ভিত্তিক ১০ জনকে নিয়ে এই সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের অভিযান হওয়ার আগেই খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসৎ কর্মচারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা একটি অংশ। গুঞ্জন অনুযায়ী, মাধবপুর উপজেলা সদরে ১ অংশ, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গোয়াছনগরে ৪ অংশ, নাজিরপুর গ্রামে ১ অংশ, ভান্ডারুয়া গ্রামে ১ অংশ, বেজুড়া গ্রামে ২ অংশ, সাংবাদিকদের নামে ১ অংশ এবং প্রশাসনিক খরচের জন্য ১ অংশ বণ্টন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের গতিবিধি আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়ার কাজটি জনৈক এক কর্মচারী করে থাকেন। তার মাধ্যমেই রাতের আঁধারে সীমনা ছড়া থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে সীমনা ছড়ার বালু লুটে জড়িত সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

মাধবপুরের সীমনা ছড়ার বালু লুটে সাংবাদিক-প্রশাসনসহ টপ ইলাভেন সিন্ডিকেট গড়ার গুঞ্জন

আপডেট সময় ০৮:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমনা ছড়ার মূল্যবান সিলিকা বালু লুট করতে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি ‘টপ ইলাভেন’ সিন্ডিকেট—এমন গুঞ্জনে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কতিপয় অসৎ কর্মচারীর নামে অংশ রেখে গোপনে গড়া এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সীমনা ছড়ার বালু কুবলে খাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই রাতের আঁধারে বড় বড় ট্রাক ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে। শুধু সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এই অবৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে বালু চোরেরা।

গত রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মজিবুর রহমান স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সীমনা ছড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু চোরেরা পালিয়ে যায় এবং বালু পরিবহনের ট্রাক্টরগুলো পার্শ্ববর্তী বাগানে লুকিয়ে রাখে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে অভিযান শেষ করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর পুনরায় বালু উত্তোলন ও পরিবহন শুরু হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এলাকা ভিত্তিক ১০ জনকে নিয়ে এই সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা ও ভূমি প্রশাসনের অভিযান হওয়ার আগেই খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসৎ কর্মচারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা একটি অংশ। গুঞ্জন অনুযায়ী, মাধবপুর উপজেলা সদরে ১ অংশ, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের গোয়াছনগরে ৪ অংশ, নাজিরপুর গ্রামে ১ অংশ, ভান্ডারুয়া গ্রামে ১ অংশ, বেজুড়া গ্রামে ২ অংশ, সাংবাদিকদের নামে ১ অংশ এবং প্রশাসনিক খরচের জন্য ১ অংশ বণ্টন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের গতিবিধি আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়ার কাজটি জনৈক এক কর্মচারী করে থাকেন। তার মাধ্যমেই রাতের আঁধারে সীমনা ছড়া থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে সীমনা ছড়ার বালু লুটে জড়িত সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।